যশোরের কেশবপুরে একটি মাঠ থেকে স্বামী-স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের মাঠ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁদের হত্যার শিকার হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে কী কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের মাগুরখালি গ্রামের মৃত জোবান আলী সর্দারের ছেলে আলেক সর্দার (৪৫) ও তাঁর স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৮)। মাঠের একটি স্থানে পাশাপাশি তাঁদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এক ব্যক্তি বিষয়টি গ্রামবাসীকে জানান। পরে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে কেশবপুর থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আফসার আলী গাজী কপির চারা রোপণের জন্য মাঠে যান। এ সময় তিনি কুদ্দুসের সেচ বোরিং এবং একটি ধানখেতের পাশের স্থানে এক নারী ও এক পুরুষের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহ দুটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল।
মরদেহ দেখতে পেয়ে আফসার আলী গাজী বিষয়টি তাঁর ভাতিজা শহীদকে জানান। শহীদ পরে গ্রামের গ্রাম পুলিশ সিরাজুল ইসলামকে খবর দেন। গ্রাম পুলিশের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাত ৮টার দিকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক ইউনিট
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় কেশবপুর থানা পুলিশের পাশাপাশি যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের নির্দেশনায় মনিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক, কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান এবং পিবিআই কর্মকর্তা দেবব্রত হরিসহ বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা তদন্ত কার্যক্রমে অংশ নেন।
উদ্ধারের পর মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে মরদেহের অবস্থা, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃতি নির্ধারণের চেষ্টা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য
একই এলাকার মাঠ থেকে স্বামী-স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা কীভাবে ওই মাঠে পৌঁছালেন, কত দিন আগে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে এবং মৃত্যুর আগে তাঁদের সঙ্গে কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ করা হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা-ও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত, মরদেহের ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি নিহত দম্পতির সাম্প্রতিক চলাফেরা ও তাঁদের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে। নিহত আলেক সর্দার ও মাজেদা বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনাই এখন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রধান লক্ষ্য


