লা লিগার চলতি মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনাকে হারিয়ে যখন জয়ের আনন্দে মেতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ, তখনই বড় ধরনের চুরির শিকার হন দলের ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার এডার মিলিতাও। ম্যাচ চলাকালে তাঁর বাড়িতে ঢুকে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। চুরি হওয়া ঘড়ি, বিলাসবহুল ব্যাগ, গয়না ও অন্যান্য সম্পদের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৫০ হাজার ইউরোর বেশি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।
ম্যাচে বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারায় রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ওই দিন মাঠে ছিলেন না মিলিতাও। দলের সঙ্গে ডাগআউটে বসে সতীর্থদের খেলা দেখছিলেন ব্রাজিলিয়ান এই ডিফেন্ডার। আর সেই সময়টিকেই চুরির জন্য বেছে নেয় দুর্বৃত্তরা। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচের প্রথমার্ধ চলাকালে স্থানীয় সময় রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
‘ডেইলি স্পোর্টস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত দুজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি মিলিতাওয়ের বাড়ির ওপরের তলার একটি কক্ষে প্রবেশ করে। ওই সময় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাড়ির নিচতলায় বসে টেলিভিশনে এল ক্লাসিকো দেখছিলেন। তাঁরা কেউই বাড়িতে চোর প্রবেশের বিষয়টি বুঝতে পারেননি। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা মিলিতাওয়ের শোবার ঘরে ঢুকে মূল্যবান সামগ্রী খুঁজে নেয় এবং ঘরটি তছনছ করে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এল মুন্দো’র প্রতিবেদনে চুরি হওয়া কয়েকটি মূল্যবান সামগ্রীর বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৫৩ হাজার ইউরো মূল্যের একটি রোলেক্স ঘড়ি এবং আনুমানিক ১ লাখ ৭০ হাজার ইউরো দামের একটি রিচার্ড মিলের ঘড়ি। দুটি ঘড়ির মোট মূল্যই ২ লাখ ২৩ হাজার ইউরো।
এ ছাড়া প্রায় ১৫ হাজার ইউরো মূল্যের তিনটি শ্যানেল ব্যাগ চুরি হয়েছে। কার্টিয়েরের একটি আংটি ও ব্রেসলেটের আনুমানিক মূল্য ২৫ হাজার ইউরো। এসবের বাইরে আরও কিছু গয়না, অতিরিক্ত ব্রেসলেট ও সুটকেস নিয়ে গেছে চোরেরা। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া সম্পদের মূল্য ৩ লাখ ৫০ হাজার ইউরো ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাড়িতে ফিরে চুরির বিষয়টি জানতে পারেন মিলিতাও। পরিবারের সদস্যরা একই বাড়িতে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দুর্বৃত্তরা ওপরের তলায় প্রবেশ করে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বাড়ির ভেতরে লোকজন থাকার পরও ঘটনাটি কারও নজরে না আসা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্পেনে পেশাদার ফুটবলারদের বাড়িতে চুরির ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। গত কয়েক বছরে দেশটির একাধিক পরিচিত ফুটবলার এমন অপরাধের শিকার হয়েছেন। খেলোয়াড়দের ম্যাচ, অনুশীলন কিংবা ক্লাবের অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। তাঁদের এই ব্যস্ত সূচি ও অনুপস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা বাড়িতে চুরির পরিকল্পনা করে বলে বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে।
২০২২ সালে বার্সেলোনার সাবেক ফরোয়ার্ড পিয়ের-এমেরিক অবামেয়াংয়ের বাড়িতে ভয়াবহ সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। ডাকাতেরা তাঁর বাড়িতে ঢুকে তাঁকে মারধর করে। ওই হামলায় তাঁর চোয়াল ভেঙে যায়। ঘটনাটি ফুটবলারদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং তাঁদের পরিবারের সুরক্ষা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছিল।
এদিকে, চলতি মাসেও ফুটবল অঙ্গনের আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি ডাকাতির শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রিয়াল বেটিসের স্ট্রাইকার ট্রয় প্যারট এবং প্যারিস সেন্ট জার্মেইর সাবেক গোলরক্ষক সার্জিও রিকো।
একের পর এক এমন ঘটনায় স্পেনের ফুটবলারদের বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাঠের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনেও তারকা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি, এসব ঘটনা তা সামনে নিয়ে আসছে। তবে মিলিতাওয়ের বাড়িতে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, তদন্তের অগ্রগতি কিংবা খোয়া যাওয়া সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।



