ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের রোষাণলে পড়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমাজসেবা সম্পাদক অর্ক সাহা। রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হলের ভেতরে তাঁকে ঘিরে ধরে ‘মব’ তৈরি করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়। মারধরের এই ঘটনার পর রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাঁকে সরাসরি শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আবাসিক হল সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে জগন্নাথ হলের প্রাঙ্গণে অর্ক সাহার উপস্থিতি টের পেয়ে শিক্ষার্থীরা দ্রুত জড়ো হতে শুরু করেন। বিগত সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ছাত্র আন্দোলনের জের ধরে ছাত্রলীগের নেতাদের ওপর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল। অর্ককে হল চত্বরে দেখতে পেয়ে একদল শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের স্থানীয় সক্রিয় নেতাকর্মী তাঁকে দ্রুত আটক করে ঘিরে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যেই হলের ভেতরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁকে গণধোলাই দেওয়ার মতো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অর্ককে আটক ও পরবর্তী প্রহারের এই পুরো ঘটনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সামনে থেকে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন।
উত্তপ্ত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে আহত অর্ক সাহাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁর আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষ হওয়া মাত্রই শিক্ষার্থীরা তাঁকে নিয়ে আসেন শাহবাগ থানায়। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে তুলে দেওয়া হয়।
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে চিহ্নিত ছাত্রলীগ নেতাদের আনাগোনা বা অবস্থান নিয়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। বিগত দিনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও নির্যাতনের অভিযোগের জের ধরে বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের নেতাদের খুঁজে বের করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করার মতো বেশ কয়েকটি ঘটনা ইতিপূর্বেও দেখা গেছে।
অর্ক সাহাকে থানায় সোপর্দ করার বিষয়ে নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা জানান, জগন্নাথ হলের ঘটনায় আটক ওই ছাত্রলীগ নেতা বর্তমানে শাহবাগ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা বা আইনি অভিযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত ও সত্যতা যাচাই শেষে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


