গৃহবধূর ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, ইমাম গ্রেপ্তার

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে এক গৃহবধূর ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নূর আলম শেখ (৩২) নামের এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (১ নভেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে শ্রীনগর উপজেলার একটি মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার সকালে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার নূর আলম শেখের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায়। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার একটি জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিবাহিত এবং চার সন্তানের জনক।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই মসজিদে ইমামতির দায়িত্বে থাকার সময় স্থানীয় একটি বাড়িতে যাতায়াত ছিল নূর আলমের। সেখানে তিনি ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্মীয় শিক্ষা দিতেন। এই সূত্রে শিশুটির মায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সম্পর্কের বিষয়টি গোপনে ভিডিও ধারণ করেছিলেন নূর আলম। প্রায় এক মাস আগে তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় এ নিয়ে আলোচনা ও অস্বস্তি তৈরি হয়। পরে মসজিদ পরিচালনা কমিটি তাঁকে ইমামতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় এবং এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে।

তবে এলাকা ছাড়ার পরও ওই গৃহবধূকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে।

পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে শ্রীনগর উপজেলার একটি মাদ্রাসা থেকে নূর আলমকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি জব্দ করা হয়। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ডিজিটাল তথ্য বা আলামত রয়েছে কি না, তা তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখার সুযোগ রয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) কামরান হোসেন জানান, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে নূর আলম ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে অভিযোগের সব দিক যাচাই করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় টঙ্গিবাড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে কাউকে হয়রানি, চাপ প্রয়োগ কিংবা কোনো অনৈতিক দাবি আদায়ের চেষ্টা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির ক্ষেত্রে আতঙ্কিত হয়ে প্রমাণ মুছে না ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার বিষয়টি বিশেষজ্ঞরা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।