ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে এক যুবককে চরম নৃশংসতার শিকার হতে হয়েছে। দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামের ওই যুবকের দুই হাত ও পা ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি দুটি চোখই উপড়ে ফেলে রেখে গেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বাইটকুমারী বিলের পাশের একটি ধানখেত থেকে তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর সংকাটপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আহত দেলোয়ার মাধবপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে যেকোনো সময় একদল দুর্বৃত্ত দেলোয়ারকে বাড়ি বা আশপাশের এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে বাইটকুমারী বিলের একটি নির্জন ও নীরব স্থানে নিয়ে হাত-পা শক্ত করে বেঁধে ফেলা হয়। সেখানে তার ওপর চলে মধ্যযুগীয় কায়দায় শারীরিক নির্যাতন। লোহার রড বা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তার দুই হাত ও পা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংসতার শেষ এখানেই ছিল না; ধারালো বা ভোঁতা কোনো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে বা খুঁচিয়ে তার দুটি চোখ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলা হয়। নির্যাতনকারীদের ধারণা ছিল অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও আঘাতের কারণে দেলোয়ার মারা গেছেন। তাই তাকে ওই বিলের ধানখেতে ফেলে রেখে তারা সটকে পড়ে।
পরদিন সোমবার সকালে স্থানীয় কৃষকেরা যখন জমি ও বিলের পাশের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তারা এক যুবককে হাত-পা বাঁধা এবং রক্তাক্ত অবস্থায় অচেতন হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। কাছে গিয়ে চিনতে পেরে তারা দ্রুত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ এবং আঘাতপ্রাপ্ত যুবকের পরিবারকে বিষয়টি জানান।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শরিফুল ইসলাম জানান, সকালে পথচারী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। যুবকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। দেরি না করে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে অবিলম্বে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তার জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন, তবে তার অবস্থা এখনো অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
ঘটনার বিষয়ে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া বলেন, সংবাদ পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি শুনেছেন যে দেলোয়ার এলাকায় বিভিন্ন সময় চুরির ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে কারা বা কী কারণে তার ওপর এই ধরনের বর্বরোচিত ও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে, সে সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে এখনো কিছু জানা যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক, তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই অमानবিক অপরাধের নেপথ্যে পূর্বশত্রুতা, চুরি সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


