দেশের ভোক্তা পর্যায়ে আবারও বাড়ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) দাম। বেসরকারি খাতে গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত বহুল প্রচলিত ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২,০৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই দর ঘোষণা করে সংস্থাটি। ঘোষিত এই সিদ্ধান্ত সোমবার রাত ৮টা থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল কাঁচামাল প্রোপেন ও বিউটেনের দাম বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারে এলপিজির মূল্য পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সূত্রে জানা গেছে। সৌদি আরামকোর নভেম্বর মাসের জন্য নির্ধারিত কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) অনুযায়ী প্রতি টন এলপিজির গড় দাম ৭৫৯ ডলারে উন্নীত হওয়ায় দেশের বাজারেও এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে মোটরযানে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও প্রতিলিটারে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা করা হয়েছে, যা অক্টোবর মাসে ছিল ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা।
সংস্থাটির নির্ধারিত সরকারি দর নিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তা কাটছে না। কারণ কাগজ-কলমে সরকার যে দর নির্ধারণ করে দিচ্ছে, বাস্তব খুচরা বাজারের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। বিগত অক্টোবর মাসে বিইআরসি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১,৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। তবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকার খুচরা বাজারে সেই দরে গ্যাস মেলেনি। ভোক্তাদের অভিযোগ, অক্টোবর জুড়েই প্রতি সিলিন্ডার কিনতে তাদের গুনতে হয়েছে ২,২০০ থেকে ২,৩০০ টাকা। কোনো কোনো এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এর চেয়েও বাড়তি দাম হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে।
গত দুই মাসের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম মোট ৪৭৫ টাকা বাড়ানো হলো। সেপ্টেম্বর মাসে এর দাম ছিল ১,৫৮৫ টাকা, অক্টোবর মাসে বেড়ে দাঁড়ায় ১,৮৩৭ টাকা এবং সর্বশেষ নতুন সিদ্ধান্তে তা দুই হাজার টাকা অতিক্রম করে ২,০৬০ টাকায় পৌঁছাল। ক্রমাগত এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের রান্নাঘরের খরচ লাফিয়ে বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিশ্ববাজারের ওঠানামার সাথে সমন্বয় রেখে দাম নির্ধারণ করা বিইআরসির দায়িত্ব হলেও খুচরা বাজারে সেই দর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির অভাবে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছেন। সরকারি সংস্থাগুলো থেকে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাজারে তা তোয়াক্কাই করছেন না বিক্রেতারা। ফলে সরকারিভাবে দর যতই বাড়ানো বা কমানো হোক না কেন, চূড়ান্ত ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাকেই। ভোক্তা অধিকার রক্ষায় নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং কার্যকর আইনি পদক্ষেপ ছাড়া খুচরা বাজারের এই বিশৃঙ্খলা রোধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সাধারণ নাগরিকরা।


