মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন ট্রাক টার্মিনাল এলাকা থেকে একটি পরিত্যক্ত শটগান উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে ট্রাক টার্মিনালের পাশের একটি ড্রেনে অস্ত্রটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এটি উদ্ধার করেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় দেশের কোনো থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি হতে পারে এই শটগানটি।
স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও নৌঘাট এলাকা সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার দিকে পাটুরিয়া ট্রাক টার্মিনালের পাশে ড্রেনের কাদা ও পানিতে একটি সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পান পথচারী ও পরিবহন শ্রমিকেরা। কাছে গিয়ে ভালো করে খেয়াল করার পর বিষয়টি আগ্নেয়াস্ত্র বলে নিশ্চিত হয়ে দ্রুত শিবালয় থানা পুলিশ এবং পাটুরিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হয়। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ড্রেন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় শটগানটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
উদ্ধার করা অস্ত্রটি পরীক্ষা করে পুলিশ জানিয়েছে এটি একটি ভারী শটগান। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের নজিরবিহীন গণআন্দোলন ও সরকার পতনের পটভূমিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার বেশ কিছু থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সেই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক থানা ও ফাঁড়ি থেকে সরকারি প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ খোয়া যায়। পরবর্তীকালে যৌথ বাহিনী ও পুলিশের উদ্যোগে সারাদেশে অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানো হয় এবং বিপুল পরিমাণ লুটের অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে এখনো কিছু অস্ত্র অধরা রয়ে গেছে। পুলিশ মনে করছে, কোনো অপরাধী দল কিংবা ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশি এড়াতে বা ধরা পড়ার ভয়ে গোপন স্থান হিসেবে বেছে নিয়ে পাটুরিয়ার মতো জনবহুল ফেরিঘাটের ড্রেনে অস্ত্রটি ফেলে চম্পট দিয়েছে।
পাটুরিয়া ফেরিঘাট দেশের অন্যতম একটি ব্যস্ততম পরিবহন পয়েন্ট। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার হাজার হাজার যানবাহন প্রতিদিন এই ঘাট ও ট্রাক টার্মিনাল ব্যবহার করে চলাচল করে। এমন একটি ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় খোলামেলা ড্রেনে একটি লোডেড বা পরিত্যক্ত শটগান উদ্ধারের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ী, চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
শিবালয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শটগানটি পরিদর্শনের পর এর গায়ে থাকা মডেল ও সিরিয়াল নম্বর মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে এটি কোন থানার অস্ত্রাগার থেকে খোয়া গিয়েছিল তা দ্রুতই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে কারা বা কোন চক্র অস্ত্রটি এখানে ফেলে রেখে গেছে, তাদের খুঁজে বের করতে পুলিশ আশেপাশের এলাকার তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও সার্বিক তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।


