চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ে বেশ চাঙ্গা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অর্থ বছরের প্রথম চার মাসে (১ জুলাই থেকে ১ নভেম্বর) প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে মোট ১ হাজার ১৬৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বা ১১ হাজার ৬৮৭ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক চিত্রের কথা জানা গেছে।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট তথ্যানুযায়ী, গত ২০২৩-২৪ কিংবা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয়ের এই ধারা বেশ আশাব্যঞ্জক। গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ১ হাজার ১৯ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (১০ হাজার ১৯২ মিলিয়ন ডলার)। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
একই সঙ্গে মাসের শুরুতেই ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছেন বিদেশে থাকা প্রবাসীরা। চলতি মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ নভেম্বরেই দেশে ২২ কোটি ২০ লাখ ডলার (২২২ মিলিয়ন ডলার) সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। অথচ গত বছরের একই দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন মাত্র ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার (৪৩ মিলিয়ন ডলার)। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে একটি নির্দিষ্ট দিনে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় চার গুণেরও বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ পথে অর্থাৎ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা, হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার ফলে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া সরকারের দেওয়া নগদ প্রণোদনাও প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি জাতীয় অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দেশে বৈদেশিক মুদ্রার টানা ঘাটতির এই সময়ে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা দেশের অর্থনীতিতে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে। ব্যাংকিং খাতে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সরাসরি সাহায্য করছে। রিজার্ভের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা তুলনামূলক সহজ হচ্ছে।
ব্যাংক খাতের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত এই অর্থ দেশের রিজার্ভের ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং সামাজিক উন্নয়ন জোরদার করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


