রাজধানীতে পার্সেল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস’-এর কার্যালয় ও যানবাহন লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা অব্যাহত রয়েছে। এবার ঢাকা মহানগরীর পল্লবীতে প্রতিষ্ঠানটির শাখা কার্যালয়ের সামনে ভয়াবহ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এক দুর্বৃত্ত। এতে মো. রমজান (২১) নামে কুরিয়ার সার্ভিসের এক কর্মী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরের চলন্তিকা মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) আফসার উদ্দিন সুজন জানান, রাত সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ৯টার মধ্যে মুখ ঢাকা এক ব্যক্তি হঠাৎ এসে অফিসের সামনে পরপর দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। বিস্ফোরণে বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং ঘটনাস্থলে থাকা কর্মী রমজান আহত হন। সহকর্মীরা তাঁকেও উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
সংবাদ পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশের একটি প্রতিনিধিদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। হামলার বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, এর আগেও এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের প্রধান শাখা কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটেছিল। প্রাথমিকে ধারণা করা হচ্ছে, আগের হামলাগুলোর সঙ্গে এই ঘটনার গভীর যোগসূত্র রয়েছে। পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে।
প্রতিষ্ঠানটির ওপর সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে গত ২০ অক্টোবর হাজারীবাগে সিকদার মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। দুর্বৃত্তরা সে সময় সিসিটিভি ক্যামেরা ও ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্র নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি ল্যাপটপ এবং প্রায় ৩১ লাখ টাকার মালপত্র লুট করে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা নিজেদের শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের ক্যাডার পরিচয় দিয়ে জমির ভাড়া তাঁদের পরিশোধ করতে হুমকি দিয়েছিল। ঐ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে হাজারীবাগ থানা-পুলিশ।
হাজারীবাগের ঘটনায় করা মামলার বাদীকে পরবর্তীতে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এরপর ২৫ অক্টোবর ভোরে হাজারীবাগের গুদামে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অপচেষ্টা চালায় সন্ত্রাসীরা। একই দিন কাজ শেষে ঘরে ফেরার পথে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মীকে মারধর করে নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া গত ৩১ অক্টোবর রাতে রাজধানীর মেয়র হানিফ উড়ালসড়কের টোল প্লাজা, মৎস্য ভবন মোড় ও রায়েরবাগ এলাকায় একই সাথে এজেআর কুরিয়ারের তিনটি গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। রায়েরবাগে একটি পার্সেলবাহী গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং মৎস্য ভবন এলাকায় হামলায় মারাত্মক আহত হন এক গাড়িচালক। একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।


