বাংলাদেশের ক্রিকেটে বয়স ৩০ পেরোলেই অনেক খেলোয়াড়ের সামনে জাতীয় দলে ফেরার পথ কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই বাস্তবতার মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সাব্বির রহমান। ৩৪ বছর বয়সে এসে এবার জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপের প্রাথমিক দলে। তরুণ ও উদীয়মান ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি করেছে বাড়তি আগ্রহ।
সাব্বিরের এই অন্তর্ভুক্তির পেছনে রয়েছে এক দশক আগের স্মরণীয় এক অধ্যায়। ২০১৬ সালের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৪ বছর। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখিয়ে সেই আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। একসময় বাংলাদেশের সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। সময়ের ব্যবধানে জাতীয় দলের বাইরে চলে গেলেও ক্রিকেটে ফেরার স্বপ্ন ছাড়েননি।
দশ বছর পর আবারও এশিয়া কাপের মঞ্চে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে। তবে এবার প্রতিযোগিতার ধরন আলাদা। রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে সাধারণত তরুণ ও সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে সাব্বিরের মতো ৩৪ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অন্তর্ভুক্তি দল নির্বাচনের কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুধু সাব্বির নন, বাংলাদেশের প্রাথমিক স্কোয়াডে রয়েছেন জাতীয় দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আরও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। তাঁদের নিয়ে চাইলে সাবেক জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে প্রায় একটি পূর্ণাঙ্গ একাদশও সাজানো সম্ভব। ফলে দলটি কেবল নতুন প্রতিভার ওপর নির্ভরশীল নয়; অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণ রাখার চেষ্টা করেছে নির্বাচকরা।
এই তালিকায় রয়েছেন প্রায় ছয় বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত মুখ নাঈম শেখ। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে খেলা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও আছেন প্রাথমিক দলে। পাশাপাশি ২০২৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া পারভেজ হোসেন ইমন জায়গা পেয়েছেন। টেস্ট ক্রিকেটে একসময় নিয়মিত ছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন শাহাদাত হোসেন দিপু, জাকির হাসান, লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, স্পিনার রাকিবুল হাসান ও পেসার রিপন মন্ডল।
অন্যদিকে, প্রাথমিক দলে থাকা সাতজন ক্রিকেটারের এখনো বাংলাদেশ জাতীয় দলে অভিষেক হয়নি। তাঁরা হলেন ইফতেখার হোসেন ইফতি, ইরফান শুক্কুর, সামিউন বশির রাতুল, মোহাম্মদ রুবেল, ইকবাল হোসেন ইমন, এস এম মেহেরব এবং চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান। তাঁদের জন্য এই প্রতিযোগিতা নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজরে আসার সম্ভাবনাও থাকবে।
ওয়ানডে সংস্করণে আয়োজিত এবারের রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হবে কাতারে। আগামী ১৯ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে প্রতিযোগিতাটি। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তরুণ ও উদীয়মান ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে এই আসর প্রতিভা যাচাই এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে।
টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও হংকং। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে এশীয় ক্রিকেটের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। তাদের সঙ্গে একই গ্রুপে খেলবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নেপাল।
রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রাথমিক স্কোয়াড:
সাব্বির রহমান, আফিফ হোসেন, নাঈম শেখ, পারভেজ হোসেন ইমন, মাহমুদুল হাসান জয়, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শাহাদাত হোসেন দিপু, জাকির হাসান, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, রিপন মন্ডল, রাকিবুল হাসান, ইফতেখার হোসেন ইফতি, ইরফান শুক্কুর, সামিউন বশির রাতুল, মোহাম্মদ রুবেল, ইকবাল হোসেন ইমন, এস এম মেহেরব ও চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান।
সাব্বিরের অন্তর্ভুক্তি এই স্কোয়াডের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলেও তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। একসময় জাতীয় দলের হয়ে আলো ছড়ানো এই ক্রিকেটারকে এখন নতুন করে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে। তাঁর অভিজ্ঞতা তরুণদের কাজে লাগতে পারে, আবার ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারেন তিনি।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাব্বিরের প্রত্যাবর্তনের গল্প তাই শুধু একটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিষয় নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে যাওয়ারও একটি উদাহরণ। বয়সের হিসাবের বাইরে গিয়ে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই নিজের জায়গা তৈরি করতে চান তিনি। এখন দেখার বিষয়, কাতারের মাটিতে সেই প্রত্যাশার কতটা প্রতিফলন ঘটাতে পারেন সাব্বির ও তাঁর সতীর্থরা।


