হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ছয়জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১,৪০২

দেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪০২ জন। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩২৫ জন। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৭৭ জন। অর্থাৎ, নতুন শনাক্ত হওয়া মোট ১ হাজার ৪০২ জনের মধ্যে অধিকাংশই হাম উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছেন। তবে উপসর্গের ভিত্তিতে শনাক্ত হওয়া রোগী এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া রোগীর হিসাব আলাদা করে বিবেচনা করতে হবে।

অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে হাম উপসর্গে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৪৮ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৪ হাজার ১৫০ জনে পৌঁছেছে। এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসাসেবার আওতায় আসছেন।

হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পরিসংখ্যানেও পরিস্থিতির ব্যাপকতা উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে মোট ২ লাখ ৮ হাজার ৬৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯৪ জন।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৬৪ জনে। পাশাপাশি, একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০৫ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

এখানে হাম উপসর্গে মৃত্যু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর পরিসংখ্যানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হওয়া মানেই পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়া নয়। তাই রোগী শনাক্তকরণ, পরীক্ষার ফলাফল এবং মৃত্যুর হিসাব পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এ রোগের পরিচিত লক্ষণ। কিছু ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রচলিত পরামর্শ অনুযায়ী, হাম প্রতিরোধে টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা, অসুস্থ অবস্থায় জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। কোনো শিশুর শরীরে জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নেওয়া উচিত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, দেশে হাম উপসর্গে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে গত ২৪ ঘণ্টায় ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতির গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রোগী শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, টিকাদান এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।