দুই বছর আত্মগোপনে থেকেও শেষরক্ষা হলো না মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির

গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু মোকারমকে (৪৪) দীর্ঘ দুই বছর পর গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জে এসআরবি-১১ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আবু মোকারমের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয় আভিযানিক দল।

গ্রেপ্তার আবু মোকারম চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার উত্তর বরকল এলাকার সর্দার বাড়ির বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার আবু তালেবের ছেলে। একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে কারাগারে সংঘটিত সহিংসতার সুযোগ নিয়ে অন্য বন্দিদের সঙ্গে তিনিও পালিয়ে যান।

পারিবারিক বিরোধ থেকে হত্যাকাণ্ড

মামলার বিবরণ ও এসআরবি-১১-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধের জেরে আবু মোকারমসহ কয়েকজন মিলে তার বোনের চাচিশাশুড়িকে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহ বাড়ির পাশের একটি ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আবু মোকারমকে প্রধান আসামি করা হয়েছিল।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সালের ১৯ মে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর একই বছরের ৯ জুলাই থেকে তিনি কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।

কারাগারে সহিংসতার সুযোগে পালিয়ে যান

এসআরবি-১১-এর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরদিন ৬ আগস্ট সকালে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে বন্দিরা সংঘবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অগ্নিসংযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা কারারক্ষীদের জিম্মি করেন। পরে কারাগারের ভেতরের বৈদ্যুতিক পিলার ভেঙে তা দিয়ে মই তৈরি করে উঁচু সীমানাপ্রাচীর অতিক্রম করেন একাধিক বন্দি।

সেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অন্যান্য বন্দির সঙ্গে আবু মোকারমও কারাগার থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।

ছদ্মবেশে দুই বছর, শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার

কারাগার থেকে পালানোর পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করেন আবু মোকারম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তিনি বিভিন্ন সময়ে ছদ্মবেশ ধারণ করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। এভাবে প্রায় দুই বছর আত্মগোপনে থাকার পরও শেষ পর্যন্ত তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় এসআরবি-১১।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার গতিবিধি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত করেন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। পরে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে সোনারগাঁয়ের মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর আবু মোকারমকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১১।

দীর্ঘদিন কারাগারের বাইরে থাকা একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির গ্রেপ্তার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারির বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। তবে আবু মোকারমের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং তার পরবর্তী আইনগত অবস্থার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।