মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল আলম উজ্জ্বলকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে থানা-পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে সিংগাইর পৌরসভার আঙ্গারিয়া মহল্লার কেন্দ্রীয় মন্দির সংলগ্ন নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রবিউল আলম উজ্জ্বল সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের ওয়াইজনগর গ্রামের মো. লোকমান মাস্টারের ছেলে।
সিংগাইর থানা-পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার আড্ডা ক্যাফে কেন্দ্রিক ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণ ও সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছিল। গ্রেফতারকৃত প্রকৌশলী রবিউল আলম উজ্জ্বল ওই বিস্ফোরক মামলায় এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ছিলেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে তৎপর ছিলেন।
সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ খবর পায় যে আসামি উজ্জ্বল সিংগাইর পৌরসভার আঙ্গারিয়া মহল্লায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করছেন। প্রাপ্ত খবরের সত্যতা যাচাই করে সিংগাইর থানা-পুলিশের একটি আভিযানিক দল কেন্দ্রীয় মন্দির সংলগ্ন ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। আভিযানিক দলটি ওই ভবনটি ঘেরাও করে এবং দুপুর নাগাদ তাঁকে বাসা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রকৌশলী রবিউল আলম উজ্জ্বল একজন পরিচিত ব্যক্তি। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে সিংগাইর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি সিংগাইর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেন এবং সেখানে দায়িত্ব পালন করেন।
গ্রেফতারের ঘটনা ও আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি জানান, পুলিশ বাদী হয়ে দায়ের করা আড্ডা ক্যাফের বিস্ফোরক মামলায় রবিউল আলম উজ্জ্বল সরাসরি এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন। সেই মামলার ভিত্তি অনুযায়ী তাঁকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাঁকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের ধরতেও পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


