জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২ জুলাই) রাতে ঢাকার লালমাটিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুর্জয়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
গ্রেপ্তারের বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “মামলা হওয়ার পর থেকে দুর্জয় আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালমাটিয়ার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
তিনি জানান, মানিকগঞ্জ সদর ও দৌলতপুর থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় আসামি দুর্জয়।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি দুর্জয়ের নামে থাকা ঢাকার লালমাটিয়ায় ২ হাজার ৫২৩ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে তিন কাঠার একটি প্লট, তিনটি গাড়ি, ১০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও দুটি বিমা পলিসির হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন আদালত।
দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।
নাঈমুর রহমান দুর্জয় ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও একই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক দায়িত্বের বাইরে তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এবং অতীতে ছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়কও।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুর্জয়কে আদালতে তোলা হবে। তবে রিমান্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
দুর্জয়ের গ্রেপ্তার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপে মোড় এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও সম্পদ জব্দের আদেশ প্রমাণ করে, এই মামলা শুধু রাজনৈতিক নয়—অর্থ ও প্রশাসনিক দুর্নীতির দিকও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
খবরওয়ালা/আশ



