চোখের চারপাশে ফোলা থেকে শুরু করে হাত–পায়ের গোড়ালি ফুলে যাওয়া, এগুলোই হতে পারে কিডনির চাপের প্রাথমিক সংকেত।
কিডনি আমাদের দেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা মূলত রক্ত পরিষ্কার করা, শরীরে তরল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় খনিজের ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু যখন কিডনির ওপর চাপ পড়ে, তখন তার প্রাথমিক সতর্ক সংকেতগুলো অনেক সময় আমরা অগ্রাহ্য করি। সিকে বীরলা হাসপাতাল, গুরগাঁও–এর নেফ্রোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মোহিত খিরবত এইচটি লাইফস্টাইল–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই প্রাথমিক লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব, এবং কিডনিকে সুস্থ রাখা যায়।”
১. প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন
স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বা কম প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব ফেনায় ভরা দেখা দেওয়া, কিংবা প্রস্রাবে সমস্যা হওয়া— এগুলো কিডনি সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। যদি এমন পরিবর্তন স্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
২. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও দুর্বলতা
কিডনি এমন একটি হরমোন তৈরিতে ভূমিকা রাখে যা লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে লোহিত রক্তকণিকার ঘাটতি হয়, ফলে অ্যানিমিয়া দেখা দেয় এবং শরীরে অবসাদ ও শক্তিহীনতা দেখা দেয়।
৩. গোড়ালি, পা বা হাত ফোলা
কিডনির ওপর চাপ পড়লে শরীরে তরল জমা হতে শুরু করে। এতে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ফুলে যায়। কিডনি তরল ও লবণের ভারসাম্য রাখতে না পারার কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়।
৪. চোখের চারপাশে ফোলা
প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন বের হয়ে যাওয়া কিডনি ক্ষতির লক্ষণ। বারবার চোখের চারপাশে ফোলাভাব দেখা দিলে বুঝতে হবে প্রস্রাবে প্রোটিন নষ্ট হচ্ছে, যা পরীক্ষা করানো জরুরি।
৫. শ্বাসকষ্ট
কিডনির ওপর চাপের কারণে ফুসফুসে তরল জমতে পারে বা অ্যানিমিয়া হতে পারে। এতে বিশ্রামে থাকলেও শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
৬. অবিরাম চুলকানি বা শুষ্ক ত্বক
সুস্থ কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য বের করে দেয় এবং খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখে। কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করলে বর্জ্য জমে গিয়ে ত্বক শুষ্ক, চুলকানি ও জ্বালা–পোড়ার সৃষ্টি করে।
৭. অস্বাভাবিক কোমরব্যথা
ঘন ঘন কোমর বা পাশের ব্যথা কিডনির সংক্রমণ, পাথর বা অন্যান্য সমস্যার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, যা কিডনির ওপর বাড়তি চাপ ফেলে।
ডা. খিরবত আরও বলেন: ‘কিডনি নিঃশব্দে অথচ নিরবচ্ছিন্নভাবে আমাদের সুস্থ রাখতে কাজ করে। এর যেকোনো সতর্ক সংকেত দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নেফ্রোলজিস্টের কাছে যেতে হবে। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে জটিলতা ঠেকানো যায় এবং কিডনির কার্যক্ষমতা রক্ষা করা সম্ভব।’
পাঠকের জন্য নোট:
এই প্রতিবেদনটি কেবল তথ্যের উদ্দেশ্যে লেখা। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। কিডনিসংক্রান্ত কোনো সমস্যায় ভুগলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
খবরওয়ালা/এমএজেড



