কুষ্টিয়ার চরমপন্থী সংগঠনের শীর্ষ সন্ত্রাসী থেকে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নাসির

নিজ সংবাদ ॥ একসময় চরমপন্থী সংগঠনের শীর্ষ সন্ত্রাসী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের মৃত মজোহার বিশ^াস দ্বিতীয় পুত্র নাসির উদ্দিন বিশ^াস (৫৩)। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমবাড়ীয়ার সিরাজ ১৯৯৮ সালে অস্ত্রসহ সারেন্ডার করার পর হালসা সুপুকুরিয়া গ্রামের জমির উদ্দিন চরমপন্থী রাজনীতিতে যোদান করে। নাসির উদ্দিন বিশ^াস সেই চরমপন্থী গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে দায়িত্বে ছিলো।

দায়িত্বে থাকাকালীন সে র‌্যাবের হাতে আটক হয় এবং ক্রস ফায়ারের আসামীও ছিলেন তিনি। চরমপন্থী সংগঠনের বিরুদ্ধে তৎকালীন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ফলে সংগঠনের প্রধান জমির উদ্দিন পালিয়ে ডুবাই চলে যায় এবং আজ অবধি জমির পলাতক রয়েছে। যার ফলে জমির গ্রুপের অবৈধ অস্ত্রের মালিক বনে যায় নাসির। তারপর থেকে ঐ সংগঠনের ত্রাণকর্তার  ভূমিকায় অবতীর্ন হয় নাসির উদ্দিন।

কুষ্টিয়ার চরমপন্থী সংগঠনের শীর্ষ সন্ত্রাসী থেকে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নাসির

জমির উদ্দিন দেশের বাইরে থাকলে তার পক্ষে নাসির এলাকায় একচাটিয়া চাঁদাবাজি শুরু করে। সেই সময়ে নাসিরের নেতৃত্বে পাটিকাবাড়ী ও আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন সহ আশে পাশের এলাকা ত্রাসের রাজত্বে পরিণত হয়। শুধু নাসিরই নয় সেই সময় তার পরিবারের প্রায় সকল সদস্যই চরমপন্থী গ্রুপের রাজনীতি জড়িয়ে পড়ে। যার জেরে নাসিরের ভাই আনিছুর রহমান বিশ^াস পোড়াদহের পাশের একটি এলাকায় অন্য চরমপন্থী গ্রুপের সদস্যদের হামলার শিকার হয়ে গুলিবিদ্ধ হয়। যা ক্ষত চিহৃ আনিছুর আজও বয়ে বেড়াচ্ছে। তার মুখের একাধিক স্থানে আজও দেখা যায় গুলির ক্ষত।

কুষ্টিয়ার চরমপন্থী সংগঠনের শীর্ষ সন্ত্রাসী থেকে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নাসির

সেই সাথে গুলি লাগার কারণে আনিছুর আজও ঠিকমত কথা বলতে পারে না। এছাড়াও আনিছুরে দাঁত হাতুড়ির দিয়ে ভেঙ্গে দেওয়াও হয়েছিলো ঐ হামলায়। কিন্তু ২০০৮ সালের অক্টোবরের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে সে তার খোলস পাল্টিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগদান করে এবং অল্প সময়েই পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতির পদ হাতিয়ে নেয়। এরপর থেকে সে দীর্ঘদিন ধরে বহাল তবিয়্যতে পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী যুব লীগের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। নাসিরের পিতা মজোহার বিশ^াস জীবিত থাকাকালীন একাধিক পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের নির্বাচন করলেও জিততে পারেনি একবারও। এরপর এলাকার লোকজন নাসিরের ভয়ে মজোহার বিশ^াসকে মজোহার চেয়ারম্যান বলে সম্বোধন করতো।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নাসির নিজেও একাধিকবার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও পূর্বের ইতিহাসের কারণে ভোট যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে প্রত্যেকবারই। ভোটে জয়ী হতে না পারলেও থেমে থাকেনি নাসিরের চাঁদাবাজি সহ অনান্য অপকর্ম। আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে নাসির পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের মাঝিলা গ্রামের লালন ও ইকরামুল সহ বিগত আওয়ামী লীগের শাসন আমলে কয়েক ডজন বাড়িঘর ভাংচুর সহ লুটপাট করেছে বলে জানা যায়। এছাড়াও নাসিরের নেতৃত্ব গত দেড় দশকে পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা কর্মিদের উপর প্রকাশ্যে হামলা চালানো হয়। যা এলাকাবাসীর সবাই জানে। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে নাসিরের হাত থেকে ছাড় পাইনি ক্ষোদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিরাও।

তাকে চাঁদা দেওয়া ছাড়া পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের বিগত দিন গুলোতে কেই চেয়ারম্যান হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারেনি বলেও জানা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, ব্যবসা বাণিজ্য বা দেখার মত কোন বিষয় সম্পত্তি না থাকলে রাজনীতি করার কারণে এলাকায় রাজার বেশে তার চলাফেরা। দল ক্ষমতায় থাকাকালীন সে হালসা বাজার থেকে মোটা অঙোকর চাঁদা পেতো প্রতিমাসে। হালসা বাজারে রেলের জমি দখল নিয়ে দোকানদারদের নিকট থেকে সে, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক সাদ আহমেদ, আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান টুটুল এবং কেন্দ্রী ছাত্রলীগ নেতা সুরঞ্জন সেন বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নেয়।

 

গুগল নিউজে খবরওয়ালা ফলো করুন
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

এই বিষয়ে হালসা বাজারের কয়েকজন দোকান মালিকের সাথে কথা হলে তারা জানান, দোকান গুলো রেলওয়ের জমিতে হওয়ার কারণে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। সেই সময় উচ্ছেদ অভিযানে দোকান রক্ষার কথা বলে এই চক্রটি প্রতিটি দোকান থেকে প্রায় কোটি টাকা চাঁদা নেয়। তাদের চাঁদা দেওয়ার পরও থামানো যায়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ অভিযান। এরপর রেলেওয়ের জায়গা লিজ নিয়ে দেওয়া হবে মর্মে এই চক্রটি পুনরায় আরেক দফা মোটা অঙ্কের চাঁদা নেয়। আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতা হওয়ার কারণে দোকান মালিকেরা তাদের কথায় বিশ^াস রাখে বলেও জানান দোকান মালিকরা।

এদিকে গত ৫ আগাস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশে ছেড়ে পালিয়ে যায় সাবেক প্রাধানমন্ত্রী শেক হাসিনা। যার ফলে আওয়ামী শাসনের অবসান ঘটে। এরপর থেকেই এই চক্রটির বিরুদ্দে মুখ খুলতে শুরু করেছে এলাকাবাসী। তার কাছে চরমপন্থী সংগঠন জমির উদ্দিন গ্রুপের সকল অস্ত্রই আজও রক্ষিত আছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা। বিস্তারিত তুলে ধরা হবে পরবর্তি প্রতিবেদনে।

আরও দেখুন:

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।