খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫ এএম
জার্মানিতে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনা জোরালোভাবে সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর আরোপিত চড়া শুল্কের হুমকি জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) ও দেশটির রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।
জার্মানির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংসদ-সদস্যরা ডিএফবিকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর পাওয়া গেছে, জার্মান সরকারও প্রাথমিকভাবে এই পদক্ষেপের পক্ষে সম্মত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে, তবে বয়কট কৌশল হিসেবে জার্মানির জন্য কার্যকর হতে পারে।
বিশ্বকাপ ২০২৬ মূলত যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে, যদিও আয়োজক দেশ তিনটি। এর ফলে যেকোনো রাজনৈতিক বিবেচনা বা উত্তেজনা সরাসরি ম্যাচ আয়োজন ও অংশগ্রহণকে প্রভাবিত করতে পারে। ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা কার্যকর হলে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও পালটা পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্বকাপ বর্জনের পথে হাঁটতে পারে।
জার্মানির রাজনৈতিক মহল ইতিমধ্যেই জনমত গঠনের প্রচারণা শুরু করেছে। রাজনৈতিক নেতারা সামাজিক ও গণমাধ্যমে নাগরিকদের বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে উদ্বুদ্ধ করছেন। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেশটির জনমতের বৈপ্লবিক চিত্র উঠে এসেছে।
জার্মানিতে ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে জনমত (জরিপ অনুযায়ী)
| মতামত | শতাংশ (%) |
|---|---|
| বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে | ৪৭ |
| বিশ্বকাপে খেলার পক্ষে | ৩৫ |
| নিরপেক্ষ / অনিশ্চিত | ১৮ |
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ডিএফবি-এর হাতে রয়েছে। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ আগামী কয়েক মাসে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে খেলোয়াড়দের স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি জার্মানি বয়কট ঘোষণা করে, তবে তা কেবল খেলাধুলার নীতিতে নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতির একটি শক্তিশালী বার্তাও হয়ে উঠবে। আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্ক ও বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিস্থিতি বিশ্বক্রীড়া জগতে বিশেষ নজরকাড়া হতে যাচ্ছে।
মন্তব্য