বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ, গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুনের সহধর্মিণী ফাতেমা মামুন আর নেই। সোমবার ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ফাতেমা মামুন পেশাগত জীবনে একজন সফল ব্যাংকার ছিলেন। দীর্ঘদিন ব্যাংকিং খাতে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি অবসরে যান। পরিবার ও কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি একজন সমাজহিতৈষী ও সংস্কৃতি অনুরাগী ব্যক্তিত্ব হিসেবে ঘনিষ্ঠজনদের কাছে পরিচিত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, এক কন্যা রয়া মুনতাসীর, দুই পুত্র মিসবাহউদ্দিন মুনতাসীর ও নাবিল মুনতাসীর, পাঁচ নাতি-নাতনি এবং অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর মরদেহ চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে মরহুমার পৈতৃক ভিটায় বা স্থানীয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
ইতিহাসচর্চা ও গবেষণাভিত্তিক লেখালেখির ক্ষেত্রে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের সুদীর্ঘ পথচলায় ফাতেমা মামুন ছিলেন এক নীরব ও শক্ত অভিভাবক। মুনতাসীর মামুনের অসংখ্য গ্রন্থ প্রকাশনা, সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণার নেপথ্যে তাঁর সার্বক্ষণিক প্রেরণা ও মানসিক সমর্থন ছিল অনন্য।
তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিদদের সংগঠন শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে এবং মরহুমার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছে। আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীরা স্মৃতিচারণ করে বলছেন, একজন বিনয়ী, সদালাপী ও বিচক্ষণ মানুষ হিসেবে তিনি সবার হৃদয়ে অম্লান থাকবেন।


