ইরান–যুক্তরাষ্ট্র অচলাবস্থায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

এশিয়ার বাজারে সোমবার সকালে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এ ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৪০ ডলার।

এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে এর প্রভাব প্রতিফলিত হয়।

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইরান জাহাজে হামলার হুমকি দিলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়। বিশ্বে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়া সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিষয় ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপদে নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার উপায় খুঁজে বের করাই তাঁদের অগ্রাধিকার, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, প্রতিনিধিদল পাঠাতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে এবং কাজের চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, তেহরানের নেতৃত্বের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিভ্রান্তি রয়েছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে একটি সমন্বিত প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানায় এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। তবে এ ঘোষণার পরও বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকে এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। এর আগে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের তথ্যেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মাত্র ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে, যেখানে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে প্রতিদিন গড়ে ১২৯টি জাহাজ চলাচল করত।

নিম্নে তেলের বাজার ও জাহাজ চলাচলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো—

সূচক পূর্ববর্তী অবস্থা বর্তমান অবস্থা
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯০ ডলারের নিচে ১০৭.৭০ ডলার
ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম উল্লেখ নেই ৯৬.৪০ ডলার
হরমুজ প্রণালিতে দৈনিক জাহাজ চলাচল ১২৯টি ১৯টি

তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলতে পারে। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে পরিবহন, উৎপাদন ও কৃষি খাতে ব্যয় বাড়ে, যা সরাসরি পণ্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি করে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।