ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বয়সভিত্তিক রেকর্ডের পাতায় এক নতুন ইতিহাস লালন করলেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ বিস্ময় লামিন ইয়ামাল। নিজেদের ঘরের মাঠ এস্তাদি অলিম্পিক লুইস কোম্পানিজে ডাচ ক্লাব ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে চূর্ণ করার ম্যাচে মাঠে অনবদ্য এক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন ১৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। পুরো ম্যাচজুড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে খণ্ডবিখণ্ড করে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি নিজে একটি দৃষ্টিনন্দন গোল করেন এবং সতীর্থদের দিয়ে করান আরও দুটি নিখুঁত গোল।
এই ম্যাচের অনবদ্য পারফরম্যান্সের সুবাদে ইউরোপ সেরা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই (টিনএজার হিসেবে) ইয়ামালের মোট গোল ও অ্যাসিস্টের সম্মিলিত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩-এ। আর এর মাধ্যমেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের ঝুলিতে থাকা ২০টি গোল-অ্যাসিস্টের আগের বিশ্বরেকর্ডটি ভেঙে সর্বকালের শীর্ষে উঠে এলেন এই স্প্যানিশ উইঙ্গার। উল্লেখ্য, বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা এমবাপ্পে তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এএস মোনাকো ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) হয়ে খেলাকালীন এই আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন, যা এতদিন পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ ছিল।
অত্যন্ত অল্প বয়সেই বার্সেলোনা এবং স্পেন জাতীয় দলের আক্রমণভাগের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছেন এই ১৭ বছর বয়সী তারকা। মাঠে তাঁর ক্ষুরধার কৌশল, নিয়ন্ত্রণপূর্ণ ড্রিবলিং এবং প্রতিপক্ষের শক্তিশালী ট্যাকটিকাল ব্লকের বিরুদ্ধে শান্ত থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সারা বিশ্বের ফুটবল বিশেষজ্ঞদের বিস্মিত করেছে। ইউরোপিয়ান ফুটবলে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জনের পর জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের মিষ্টি স্বাদ ইতোমধ্যে পেয়েছেন তিনি। তাঁর এই অসাধারণ ও বিরল পারফরম্যান্সের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে অতি সম্প্রতি বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার ‘ব্যালন ডি’অর’-এর ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন ইয়ামাল।
স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার ঘরোয়া লা লিগা ও ইউরোপীয় শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযানে লামিন ইয়ামালের এই অসামান্য ফর্ম ও আক্রমণাত্মক ছন্দ দলটিকে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। বয়স বিশের কোঠা ছোঁয়ার আগেই তিনি যেভাবে প্রতি ম্যাচে নিত্যনতুন আন্তর্জাতিক মাইলফলক স্পর্শ করছেন, ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে আধুনিক বিশ্ব ফুটবলের আগামী এক দশকের গতিপথ তিনি একাই বদলে দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন। তাঁর এই অবিশ্বাস্য ফুটবলযাত্রার সীমানা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, এখন সেটিরই ঐতিহাসিক সাক্ষী হতে উন্মুখ হয়ে আছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি ফুটবলপ্রেমী।



