এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: 30শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৪ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের আধুনিক উপন্যাস নির্মাণকলার অন্যতম পথিকৃৎ শিল্পীর নাম রশীদ করিম। তাঁর সম্পর্কে কবি শামসুর রাহমান বলেছিলেন, ‘রশীদ করিম আমাদের দেশের অন্যতম সেরা গদ্যকার। তাঁর ‘উত্তম পুরুষ’ উপন্যাসের ভাষা আশ্চর্য সহজ-সরল ও আধুনিক। রশীদ করিমকে আমি আমার সেরা বন্ধু মনে করি।’
১৯২৫ সালের ১৪ আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন রশীদ করিম। সেখানেই বেড়ে ওঠা। দেশ বিভাগের পর কলকাতা ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন তেল কোম্পানির চাকরি নিয়ে।
পঞ্চাশের দশকেই লেখালেখির সূচনা করেন গল্প দিয়ে। ১৯৪২ সালে সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গল্প “আয়েশা”। প্রথম উপন্যাস দিয়েই তিনি বাংলা সাহিত্যে নিজের আসন সুদৃঢ় করেন। একই বছরে তাঁর “একটি মেয়ের আত্মকাহিনী” গল্পটি প্রকাশিত হলে বুদ্ধদেব বসু তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ভারত ভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত “উত্তম পুরুষ” (১৯৬১) তাঁকে এনে দেয় আদমজী পুরস্কার।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে প্রসন্ন পাষাণ, আমার যত গ্লানি, প্রেম একটি লাল গোলাপ, সাধারণ লোকের কাহিনী, একালের রূপকথা, সোনার পাথরবাটি, বড়ই নিঃসঙ্গ, মায়ের কাছে যাচ্ছি, চিনি না, পদতলে রক্ত, লাঞ্চ বক্স। প্রকাশিত সর্বশেষ গ্রন্থ তাঁর আত্মজীবনী “জীবনমরণ”।
বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, লেখিকা সংঘ পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা লাভ করেন।
রশীদ করিম জনপ্রিয় ছিলেন তাঁর নির্মেদ, সাবলীল ও কাব্যিক দ্যোতনাময় গদ্যের জন্য। উপন্যাসের পাশাপাশি ছোটগল্প ও প্রবন্ধ রচনায়ও তিনি ছিলেন অনন্য। সমৃদ্ধ জীবনাভিজ্ঞতা, স্বকীয় ভাষাভঙ্গি ও অনন্য গদ্যশৈলী দিয়ে তিনি বাংলা কথাসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর অগ্রজ আবু রুশদও ছিলেন একজন বিশিষ্ট লেখক।
মৃত্যুর আগের প্রায় দুই দশক তিনি ছিলেন লোকচক্ষুর আড়ালে এবং ২০১১ সালের ২৬ নভেম্বর ৮৬ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সমকালীন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কথাশিল্পী রশীদ করিম তাঁর অনন্য সাহিত্যকর্মের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
আজ তাঁর জন্মদিনে তার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্য।
লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, খবরওয়ালা
খবরওয়ালা/এমএজেড