সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় করতোয়া নদীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পানসি নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা চলাকালে দু’টি নৌকার মধ্যে তীব্র ধাক্কা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই অপ্রীতিকর ঘটনায় দুটি নৌকাই নদীতে তলিয়ে যায় এবং দুই দলের বাইছালদের মধ্যে সৃষ্ট মারামারিতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সলপ ইউনিয়নের সোনতলা এলাকায় করতোয়া নদীতে। বর্ষার শেষভাগে প্রতিবছরের মতো এবারও সোনতলা ঘাটে স্থানীয়ভাবে এই ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। খবর পেয়ে আশেপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার উৎসুক মানুষ বাইচ উপভোগ করতে করতোয়া নদীর দুই পাড়ে সমবেত হন। অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, বাইচ চলাকালে ‘সোনতলা সোনাবাজু একতা এক্সপ্রেস’ এবং ‘বংকিরাট নবশক্তি ফাইটার’ নামের দুটি প্রতিযোগী নৌকা একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। নদীর সংকীর্ণ এক স্থানে গতি বাড়াতে গিয়ে প্রতিযোগিতা চলাকালীন দুটি নৌকা খুব কাছাকাছি চলে আসে এবং পরস্পরের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। ধাক্কার চোটে তাৎক্ষণিকভাবে দুটি নৌকাই পানি ঢুকে নদীতে ডুবে যায়।
নৌকা দুটি তলিয়ে যাওয়ার পরপরই পানিতে ভেসে থাকা দুই নৌকার বাইছালদের (মাঝি) মধ্যে তীব্র বাক্যবিতণ্ডা শুরু হয়। হার-জিত ও ধাক্কা লাগার দায় চাপানো নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে উভয়পক্ষের বাইছালরা সরাসরি সংঘর্ষ ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই দুই দলের অন্তত ১০ জন মাঝি আহত হন।
ঘটনার পরপরই আয়োজক কমিটির সদস্যরা ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পানিতে ডুবে যাওয়া মাঝিদের উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন। আয়োজক কমিটির প্রতিনিধিদের ভাষ্য মতে, প্রতিযোগিতার চরম উত্তেজনার মুহূর্ত থেকেই মূলত এই অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতির সূত্রপাত হয়েছিল। তবে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে জলপথের এই মারামারি থামানো সম্ভব হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, প্রতিযোগিতা চলাকালে দুই নৌকার মধ্যে ধাক্কা লেগে দুটি নৌকাই নদীতে ডুবে গিয়েছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় একটি নৌকা ইতোমধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপর নৌকাটি এখনো নদী থেকে উদ্ধার করা যায়নি। বাইছালদের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টিকে খতিয়ে দেখছে।


