খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে মাঘ ১৪৩০ | ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | 1148 Dhu al-Hijjah 5

রঞ্জ্উুর রহমান ॥ বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনী আয়োজনে ৮ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে তিন দিনব্যাপী ‘ওস্তাদ ভাই লাঠিখেলা উৎসব ও লোকজ মেলা ২০২৪ উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত চলবে এই লাঠিখেলা উৎসব ও লোকজ মেলা। গতকাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাইফুল আলম চৌধুরী রিংকী এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শিশির কুমার রায়। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনীর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনীর উপদেষ্টা সদস্য জিয়া হাসান চৌধুরী রিপন। তিন দিনব্যাপী লাঠিখেলা উৎসব ও লোকজ মেলা উপলক্ষে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠ সেজেছে অপরূপ সাজে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৭ শতাধিক লাঠিয়াল। ইতোমধ্যে কয়েকশত লাঠিয়াল কুষ্টিয়া এসে পৌঁছেছে। গতকাল সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া টাউন হল হতে লাঠিয়ালদের এক বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়। র্যালীটি কুষ্টিয়া শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে এসে শেষ হয়। গতকাল ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এই উৎসব চলবে। লাঠিখেলার প্রতিদিন পাশাপাশি সন্ধ্যে ৭টা থেকে থাকবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কুষ্টিয়ার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শিশির কুমার রায় দূর-দূরান্ত থেকে আগত সকল লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। কুষ্টিয়াবাসীর অনেক গৌরবের কারণ আছে, কারণ এখানে জন্ম নিয়েছেন রবি ঠাকুর, লালন শাহ, মীর মোশাররফ হোসেন, কাঙ্গাল হরিনাথ এবং প্যারী সুন্দরী মতো গুণি ব্যক্তিসহ আরও অনেক বিখ্যাত মানুষ। যাদের কাছ থেকে প্রাণ শক্তি নিয়ে আমরা উজ্জীবিত থাকবো এবং এই লাঠি খেলা চলমান রাখবো। প্রথম নারী লাঠিয়াল হাসনা বানুর ছেলে ও বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনীর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আধুনিক খেলাধুলার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলাকে বাঁচিয়ে রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রূপন্তীর মতো দেশের অন্য নারীদের আত্মরক্ষার্থে এ লাঠিখেলার প্রশিক্ষণ দেয়া দরকার।