খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
কুষ্টিয়ায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এহাজার দায়ের করেছেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার স্বস্তিপুর এলাকার আমির হোসেন খাঁর ছেলে আলী হায়দার (৪৩) এর সাথে ০৯/০৮/২০২৩ ইং তারিখে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয় বটতৈল নতুনপাড়া এলাকার ইয়ার আলী খাঁ’র মেয়ের। বিয়ের পর থেকেই আলী হায়দার পরিবারের প্রচোরনায় তার স্ত্রীকে ৭ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে শারিরীক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। স্বামী ও তার পরিবারের নির্যাতন থেকে বাঁচতে নিজের সুখের কথা চিন্তা করে ওই গৃহবধূ আসবাবপত্র সহ ২ লাখ টাকা দেয় তার স্বামী আলী হায়দারকে। তারপরও যৌতুক লোভী আলী হায়দার ও তার পরিবার ওই গৃহবধূকে আরো টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। কিন্তু ওই গৃহবধূ আর টাকা আনতে পারবে না বলে জানালে যৌতুক লোভী আলী হায়দার নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ ফেব্র“য়ারি ২০২৪ ইং তারিখে রাত সাড়ে ১১টার সময় ওই গৃহবধূর ভাসুর আলী রেজা (৪৬) যৌতুকের বাকী ৫ লাখ টাকা আনার জন্য আলী হায়দারকে বলে। বিষয়টি ওই গৃহবধূকে বললে গৃহবধূ আর টাকা এনে দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়। এসময় এজাহারের ৩নং আসামী ওই গৃহবধূর শ্বাশুড়ি রহিমা খাতুন (৬২) ও ৫নং আসামী ননদ চুমকী খাতুন (৩৫) চুলের মুঠি ধরে রাখে এবং এজাহারের ১নং আসামী গৃহবধূর স্বামী আলী হায়দার গৃহবধূর শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি লাথি মেরে কালশিরা নীলা ফোলা জখম করে নিচে ফেলে দেয়। এসময় এজাহারের ২নং আসামী আলী রেজা ও ৪নং আসামী আমির হোসেন খাঁ গৃহবধূকে পা দিয়ে পাড়াতে থাকে। এক পর্যায়ে আসামীরা টেনে হিচড়ে সিড়ি দিয়ে গৃহবধূকে নিচে নামিয়ে দেয়। পরে ওই গৃহবধূ কৌশলে তার পরিবারকে ফোন করে বিষয়টি জানালে তারা এসে গৃহবধূকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে ওই গৃহবধূ কিছুটা সুস্থ বলে জানা গেছে। এদিকে এজাহার দায়ের এর তিনদিন পেরিয়ে গেলেও মামলা না হওয়ার বিষয়টি জানতে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সোহেল রানাকে ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।