ঢাকার কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে এক তরুণ মাছ ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে চিহ্নিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। মোহাম্মদপুর এলাকায় ফুটপাতে মাছের দোকান বসানো ও চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেরানীগঞ্জের আরশীনগর এলাকার ‘রাজ সেলুন’-এ এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত তরুণের নাম ফরহাদ হোসেন (২৫)। তিনি ভোলা জেলার দুলারহাট উপজেলার নূরাবাদ গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে। পরিবারসহ তিনি দীর্ঘদিন ধরে কেরানীগঞ্জের আরশীনগরের মেম্বার গলি এলাকায় বসবাস করছিলেন এবং জীবিকার তাগিদে মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছ বিক্রি করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে নিজ বাসার কাছেই আরশীনগরের ‘রাজ সেলুন’-এ চুল কাটতে যান ফরহাদ। সেখানে তিনি চেয়ারে বসা মাত্রই স্থানীয় ‘অ্যালেক্স গ্রুপ’ নামের কিশোর গ্যাংয়ের ১০ থেকে ১৫ জনের একদল সশস্ত্র সদস্য হামলা চালায়। গ্যাংটির মূল সন্ত্রাসী সাব্বির ও আরমানের সরাসরি নেতৃত্বে ক্যাডাররা সেলুনের ভেতরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফরহাদকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ফরহাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে চাইলে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। পরবর্তীতে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বিকেল সাড়ে চারটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ফরহাদকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পটভূমি বর্ণনা করতে গিয়ে নিহতের বন্ধু আরিফ জানান, মোহাম্মদপুর মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছের ব্যবসা পরিচালনা করা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ফরহাদকে উত্ত্যক্ত করছিল কিশোর গ্যাংটি। অ্যালেক্স গ্রুপের সদস্য আরমান, সোহেল, কাল্লু ও সাব্বিরসহ বেশ কয়েকজন তার কাছে এককালীন ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। এর পাশাপাশি ব্যবসা চালু রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট অংকের আলাদা চাঁদা না দিলে তাকে উচ্ছেদের হুমকিও দেওয়া হতো।
নিহতের স্বজনরা জানান, ফরহাদ তাদের দাবি করা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। এতে করে গ্যাং সদস্যদের সাথে তার বেশ কিছু দিন ধরে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই সন্ত্রাসীরা অবস্থান শনাক্ত করে পরিকল্পিতভাবে সেলুনের ভেতর ঢুকে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আরশীনগর ও আশেপাশের এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঢামেক হাসপাতাল ও দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ জোর অভিযান শুরু করেছে। নিহত পরিবার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাব্বির, আরমানসহ পুরো চক্রটিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


