মেলবোর্নের বক্সিং ডে টেস্টে অভিষেক, জসপ্রীত বুমরাহকে সাহসী শটে ছক্কা এবং বিরাট কোহলির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়—স্যাম কনস্টাসের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকটি ছিল ঘটনাবহুল। প্রায় দুই বছর পরও সেই ম্যাচের কিছু মুহূর্ত ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে আছে। এবার অস্ট্রেলিয়ার ‘এ’ দলের হয়ে ভারত সফরে থাকা কনস্টাস নিজেই ফিরে দেখলেন সেই আলোচিত অধ্যায়।
সম্প্রতি ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কনস্টাস বলেন, কোহলির সঙ্গে সেই ঘটনার পর তাঁদের মধ্যে কোনো তিক্ততা তৈরি হয়নি। তাঁর ভাষায়, কোহলি তাঁকে কাঁধ দিয়ে ধাক্কা দিয়েছিলেন, কিন্তু এরপর দুজনেই বিষয়টি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যান। ম্যাচ শেষে কোহলি তাঁর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য শুভকামনাও জানিয়েছিলেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার বক্সিং ডে টেস্টের প্রথম দিনে। তখন কনস্টাসের বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর এবং সেটিই ছিল তাঁর আন্তর্জাতিক টেস্ট অভিষেক। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ১০ ওভার শেষ হওয়ার পর দুই দলের খেলোয়াড়েরা প্রান্ত বদল করার সময় কোহলি ও কনস্টাসের কাঁধে ধাক্কা লাগে। এরপর দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হলে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার উসমান খাজা ও আম্পায়ার মাইকেল গফ পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ঘটনার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) আচরণবিধির ২.১২ ধারা ভঙ্গের দায়ে কোহলিকে ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ জরিমানা করা হয় এবং একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়। কোহলি শাস্তিটি মেনে নেওয়ায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।
তবে ওই ঘটনার আগে থেকেই কনস্টাস নিজের ব্যাটিং দিয়ে ম্যাচের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছিলেন। ভারতের পেস আক্রমণের অন্যতম বড় অস্ত্র বুমরাহকে তিনি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মকভাবে খেলেন। অভিষেক টেস্টে ৬৫ বলে ৬০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। তাঁর ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও দুটি ছক্কা।
এর মধ্যে বুমরাহকে করা একটি রিভার্স র্যাম্প ছিল সবচেয়ে বেশি আলোচিত। ওই শটে ছক্কা হাঁকিয়ে কনস্টাস শুধু নিজের সাহসী ব্যাটিংয়ের পরিচয় দেননি, বুমরাহর দীর্ঘ সময়ের ছক্কাবিহীন ধারাও ভেঙে দেন। আইসিসির তথ্য অনুযায়ী, বুমরাহর টেস্ট ক্যারিয়ারে সেটি ছিল ২০২১ সালের পর প্রথম হজম করা ছক্কা।
সেই সময় বুমরাহর বিপক্ষে এমন শট খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে কনস্টাসের মধ্যে অবশ্য কোনো দ্বিধা ছিল না। বরং তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংই মেলবোর্ন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতে এগিয়ে দেয়। পরে নিজের সেই অভিজ্ঞতা স্মরণ করে কনস্টাস জানান, পুরো মুহূর্তটি তাঁর কাছে বেশ আনন্দের ছিল। বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলারের বিপক্ষে অভিষেকেই এমন কিছু করা তাঁর কাছে ছিল অনেকটা অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা।
কোহলির সঙ্গে সংঘাতের প্রসঙ্গেও কনস্টাসের বর্তমান অবস্থান বেশ সরল। তিনি এটিকে অতীতের একটি মাঠের ঘটনা হিসেবেই দেখছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উত্তেজনা থাকবেই; গুরুত্বপূর্ণ হলো ম্যাচের পর সেটিকে আর ব্যক্তিগত বিরোধে পরিণত না করা।
মেলবোর্নে অভিষেকের দিনটি তাই কনস্টাসের ক্যারিয়ারে একাধিক কারণে আলাদা হয়ে আছে। একদিকে ছিল বুমরাহর মতো বিশ্বমানের বোলারের বিপক্ষে নির্ভীক ব্যাটিং, অন্যদিকে কোহলির মতো অভিজ্ঞ তারকার সঙ্গে উত্তপ্ত মুহূর্ত। মাত্র ১৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এমন বড় মঞ্চে নিজের উপস্থিতি জানান দেওয়ার পর কনস্টাস যে দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছিলেন, সেই ম্যাচ তারই প্রমাণ।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে ভারত সফরে থাকা কনস্টাস সেই পুরোনো ঘটনার দিকে এখন অনেক বেশি স্বাভাবিকভাবে তাকাচ্ছেন। তাঁর কথায়, মেলবোর্নের উত্তেজনা মাঠেই শেষ হয়ে গেছে। কোহলির সঙ্গে সেই মুহূর্ত এখন তাঁর কাছে বিতর্কের চেয়ে বরং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের একটি স্মরণীয় অধ্যায়।


