সাবেক কাউন্সিলর প্রার্থী ও খিলক্ষেত থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহিনুর আলম মারফতকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) এসআরবি-১-এর একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে পরে খিলক্ষেত থানায় সোপর্দ করেছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, চাঁদাবাজির অভিযোগে তালিকাভুক্ত আসামি হিসেবে শাহিনুর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শাহিনুর আলম মারফত খিলক্ষেত থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে তার সক্রিয়তা ছিল। এর আগে তিনি স্থানীয় কাউন্সিলর নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে ওই নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি।
স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার কথা জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কিংবা এর আগে তার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি কার্যক্রম এগোচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট বিবরণ মামলার নথি ও আদালতের কার্যক্রমে আরও স্পষ্ট হতে পারে।
রোববার এসআরবি-১-এর সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করার পর খিলক্ষেত থানায় নিয়ে যান। এরপর থানা পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পুলিশ বলছে, অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। আদালতে অভিযোগের বিচার এবং উভয় পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই তার দায় নির্ধারিত হবে। শাহিনুর আলমের ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে, একজন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় পর্যায়ের সাবেক নেতা ও কাউন্সিলর প্রার্থীকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছভাবে এগোয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
খিলক্ষেত থানা পুলিশ জানিয়েছে, শাহিনুর আলমকে থানায় সোপর্দ করার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
তবে গ্রেপ্তারের পর তার পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, কিংবা তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কি না—তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। একইভাবে মামলার ধারা, অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ঘটনা ও কথিত চাঁদাবাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
পরবর্তী সময়ে আদালতে হাজির করার পর মামলার অভিযোগ, পুলিশ ও আসামিপক্ষের বক্তব্য এবং আদালতের নির্দেশনার মাধ্যমে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। আপাতত শাহিনুর আলম মারফত পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


