খুলনায় যুবককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, সড়কে পড়ে ছিল মরদেহ

খুলনা নগরের লবণচরা এলাকায় শহীদুল (৩৫) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে দরগা কাশেমিয়া মসজিদসংলগ্ন সড়ক থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে শহীদুলকে হত্যার পর সড়কের ওপর ফেলে রেখে যায়। তবে কারা এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

নিহত শহীদুল লবণচরা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিয়মিত বাড়িতে থাকতেন না। দুই-তিন দিন পরপর বাড়িতে আসতেন। শনিবার বিকেলে তিনি বাড়িতে ফেরেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর রাতে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত ১১টার দিকে শহীদুলের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে একটি সড়কের ওপর তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এক ব্যক্তি। বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁর পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারফ হোসেন জানান, দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে শহীদুলকে কুপিয়ে হত্যার পর ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও জানান, নিহত শহীদুলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাতটি মামলা এবং একটি হত্যা মামলা রয়েছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, পরিচিতজনদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক চলাফেরার বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলটি কিছুটা নির্জন হওয়ায় সেখানে কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কারণ রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সম্ভাব্য সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলা এবং অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

নিহতের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোও তদন্তের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে এসব মামলার সঙ্গে তাঁর হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত কোনো বক্তব্য দেয়নি।

১০ মাসে খুলনায় ৭২ হত্যাকাণ্ড

এদিকে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে খুলনায় বিভিন্নভাবে ৭২ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। গুলি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ বিভিন্ন উপায়ে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬৯টি।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি নিহত হওয়ায় হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ও দায়ের করা মামলার সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ, ৭২ জন নিহত হলেও সব হত্যাকাণ্ডের জন্য আলাদা মামলা হয়নি।

পুলিশের তথ্য বলছে, এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, পূর্বশত্রুতা এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধের মতো বিষয় জড়িত রয়েছে। অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উঠে এসেছে।

খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষ করে নির্জন সড়ক ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার বাইরে সহিংসতার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নজরদারির প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলছে।

শহীদুল হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এখনো অজানা। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর সঙ্গে এই হত্যার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রকৃত ঘটনা জানতে তদন্তের ফলাফল এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা করতে হবে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং আইনের আওতায় আনা হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।