কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে পাকুন্দিয়া পৌরসভার আনোয়ারখালী গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই শিশু হলো—আনোয়ারখালী গ্রামের সিদ্দিক হোসেনের দুই বছর বয়সী মেয়ে নুসাইবা এবং তাঁর বোন মরিয়মের তিন বছর বয়সী মেয়ে আদিবা। পারিবারিকভাবে তারা মামাতো-ফুফাতো বোন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার সকালে নুসাইবা ও আদিবা বাড়ির পাশেই খেলছিল। এ সময় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে কোনো একপর্যায়ে তারা পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। শিশু দুটির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের লোকজন দ্রুত আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর স্বজনেরা দ্রুত দুই শিশুকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নুসাইবা ও আদিবা—দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাওহীদ পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাসপাতালে আনার আগেই দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।
একসঙ্গে খেলতে গিয়ে দুই শিশুর এমন মৃত্যুতে আনোয়ারখালী গ্রামে শোকের পরিবেশ নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবারের পরিবেশ। অল্প বয়সী দুই শিশুকে হারিয়ে তাদের পরিবার ও স্বজনেরা শোকাহত।
শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়ির আশপাশের পুকুর, ডোবা ও জলাশয় বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দুই থেকে তিন বছরের মতো কম বয়সী শিশুরা বিপদের মাত্রা বুঝতে পারে না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবারের নজর এড়িয়ে পানিতে পড়ে যেতে পারে। এ কারণে বাড়ির কাছে জলাশয় থাকলে শিশুদের একা খেলতে না দেওয়া এবং তাদের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে এ ধরনের দুর্ঘটনায়।
পাকুন্দিয়ার এ ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়ভাবে শোকের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের অসতর্কতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে কীভাবে তারা পুকুরে পড়ে যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।


