ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে রাতে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি এবং গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এক ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে গাছের সঙ্গে বেঁধে জিম্মি করে এই নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে বিপুল অংকের চাঁদা দাবি করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মূল অভিযুক্তদের একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালীবাড়ি এলাকায় এক সৌদি প্রবাসীর অর্ধনির্মিত বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা জানান, প্রবাসী স্বামীর বড় মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর ওই নারী তার নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করছিলেন। রাত আটটার দিকে একই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা শরীফ, আরিফ, ফাহিম, রাজিব ও এনামুলসহ পাঁচজনের একটি সশস্ত্র দল পানি পানের অজুহাতে প্রবাসীর বাড়িতে ঢোকে। প্রবাসীর ছেলে জগ ও গ্লাস নিয়ে দরজার কাছে আসামাত্রই তাকে ধরে ফেলে দুর্বৃত্তরা। ঘরের বাইরের একটি গাছের সঙ্গে তাকে শক্ত করে বেঁধে গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে রাখা হয়।
পরবর্তীকালে সশস্ত্র ডাকাত দলটি ঘরে প্রবেশ করে প্রবাসীর স্ত্রীকে জিম্মি করে তাণ্ডব চালায়। তারা ঘরে থাকা স্টিলের আলমারি ভেঙে গচ্ছিত নগদ ৫ লাখ টাকা এবং গলার হার, কানের দুলসহ প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের দুই ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। লুটপাট শেষে ছেলেকে জিম্মি করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে বাইরে নিয়ে আসা হয় এবং সন্তান ও মায়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় অভিযুক্ত রাজিব পুরো ঘটনার ভিডিও চিত্রে ধারণ করে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। চলে যাওয়ার সময় আগামী তিন দিনের মধ্যে আরও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তারা। টাকা না দিলে কিংবা ঘটনা কাউকে জানালে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ডাকাতদল চম্পট দেওয়ার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকারে পাশের বাড়ির মানুষজন ছুটে আসেন এবং দ্রুত গফরগাঁও থানা পুলিশে খবর দেন। তথ্য পেয়েই স্থানীয় ফাঁড়ি ও থানার পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুসন্ধান শুরু করেন। রাত তিনটার দিকে অদূরে চর কালীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের এক নির্জন এলাকা থেকে রাজিবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আটক করার সময় প্রমাণ মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে রাজিব ভিডিও ধারণকৃত মোবাইলটি পাশের পানিতে ফেলে দিলে পুলিশ তা উদ্ধার করে।
ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করে গফরগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনতোষ বিশ্বাস জানান, ভুক্তভোগী নারী পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, দুজন সরাসরি অপরাধে অংশ নেয় এবং বাকিরা পাহারা দেয়। পুলিশ ইতোমধ্যেই মূল অভিযুক্ত একজনকে আটক করেছে এবং আলামত হিসেবে মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পাদন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


