জামালপুর জেলা শহরের এক তালাবদ্ধ বাসা থেকে ইসরাত জাহান (৩০) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে শহরের ব্যস্ততম শেখের ভিটা রেলক্রসিং এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের ফ্ল্যাটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় অপর একটি কক্ষে বন্দি অবস্থায় থাকা নিহত নারীর ১০ বছর বয়সী মেয়ে ও ৫ বছর বয়সী ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী কাউসার আহম্মেদ শাওন (৩৫) আত্মগোপনে রয়েছেন। প্রতিবেশীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবারটি উক্ত ভবনের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিল। রোববার সকালের দিকে ফ্ল্যাটের বন্ধ জানালার ফাঁক দিয়ে দুটি শিশুকে দীর্ঘক্ষণ ধরে কান্নাকাটি করতে দেখেন স্থানীয়রা। শিশুরা আকুল হয়ে পথচারী ও প্রতিবেশীদের কাছে খাবার ও পানি চাচ্ছিল।
শিশুদের এই করুণ চিৎকার ও কান্নাকাটিতে সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন ভবনের মালিককে বিষয়টি জানান। পরে কয়েকজন গৃহকর্তা ও প্রতিবেশী মিলে ওই ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে দেখেন, বাইরে থেকে মূল দরজায় শক্তভাবে তালা ঝুলানো রয়েছে। বাধ্য হয়ে তারা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং অন্য একটি ঘরে আটকে রাখা অবস্থায় অবুঝ শিশু দুটিকে উদ্ধার করেন।
পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে অন্য একটি ঘরের ভেতরে ইসরাত জাহানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দা মৌসুমী আক্তারসহ কয়েকজন ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে আসে।
মৌসুমী আক্তার জানান, সকালে ছোট ছোট বাচ্চাদের জানালা দিয়ে আকুতি-মিনতি করে পানি চাইতে দেখে সবাই এগিয়ে আসেন। তালা ভেঙে ঢোকার পরই শোয়ার ঘরে গৃহবধূর নিথর দেহ দেখে তারা স্তম্ভিত হয়ে যান। নিহতের স্বামী কেন তালা দিয়ে উধাও হলেন, তা নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
খবর পেয়ে জামালপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা মরদেহের স্থান আলামত সুরক্ষার স্বার্থে ঘিরে ফেলে এবং প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরবর্তীতে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুর মা ইসরাত জাহানের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত নারীর স্বামী কাউসার আহম্মেদ শাওন বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কিছু, তা ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।


