জিডি করে বাড়ি ফেরার পথে রংপুরে মুদি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

রংপুরের মিঠাপুকুরে দীর্ঘদিনের জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে মিজানুর রহমান (৪৬) নামে এক মুদি ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে মায়ের সঙ্গে রিকশা-ভ্যানে চড়ে বাড়ি ফেরার পথেই তাঁর ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের নৃশংস হামলায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই ব্যবসায়ীর।
গত ১৮ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের চিথলী পশ্চিমপাড়া (পোড়ারহাট) গ্রামে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মিজানুর রহমান ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে এবং স্থানীয় পোড়ারহাট বাজারের এক জনপ্রিয় মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী আব্দুল কাফি মুন্সির পরিবারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে মিজানুরের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলে আসছিল। ঘটনার দিন মঙ্গলবার দুপুরে দোকানের সামনে বসে থাকার সময় প্রতিপক্ষের লোকজনের চালানো একটি মোটরসাইকেল মিজানুরের পায়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। তিনি ঘটনার প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
হুমকির পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন মিজানুর। আইনি সুরক্ষা পেতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মা আজুবা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মিঠাপুকুর থানায় যান এবং একটি জিডি দায়ের করেন। কিন্তু আইনি পদক্ষেপ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। থানা থেকে জিডি সম্পাদন করে রাত ১টার দিকে যখন তাঁরা রিকশা-ভ্যানে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক তখনই পোড়ারহাট বাজারের কাছে পৌঁছামাত্র আগে থেকে ওত পেতে থাকা সশস্ত্র দলটি তাঁদের পথরোধ করে।
অভিযোগ মতে, নুরনবী, নুর মোহাম্মদ, মাসুদ, মোস্তাফিজার, কালাম ও মাহফুজারসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র যেমন বঁটি, রামদা, ধারালো ছুরি ও লাঠিসোটা নিয়ে মিজানুরের ওপর অতর্কিত ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁকে রিকশা-ভ্যান থেকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে প্রথমে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এরপর রামদা ও ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে কোপানো হতে থাকে।
সন্তানকে বাঁচাতে মা আজুবা বেগম হামলাকারীদের কাছে হাতজোড় করে অঝোরে আকুতি-মিনতি করেছিলেন। কিন্তু নিষ্ঠুর ঘাতকেরা বৃদ্ধা মাকে একপাশে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে রক্তাক্ত মিজানুরের ওপর পুনরায় নৃশংস কোপাতে থাকে। আশঙ্কাজনক হারে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে মিজানুরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকেরা পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে লাশটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের মা আজুবা বেগম বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের বোন রেখা বেগম ও প্রতিবেশীরা বিনা দোষে একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতকদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Tags :

Shakib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর