বিশিষ্ট সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার “জুলাই ঘোষণাপত্রে” বিএনপি’র দাবি অনুযায়ী ৭ই নভেম্বরের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সেই ৭ই নভেম্বরের উৎস কী, কীভাবে তা এল—সেই প্রেক্ষাপটের কোনো ব্যাখ্যা নেই।
জুলাই ঘোষণাপত্রের আলোচনায় তার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ।
পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘোষণাপত্রে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বিভীষিকাময় অধ্যায়—১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সামরিক অভ্যুত্থান ও রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ড—পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন।
তিনি বলেন, “জুলাই ঘোষণা” নামে প্রচারিত এই ভাষণে তিনি ১৯৭২ সালের পরবর্তী তথাকথিত আওয়ামী দমন-পীড়নের কথা উল্লেখ করার পর সরাসরি চলে গেছেন ৭ নভেম্বর ১৯৭৫-এ—মাঝখানে ১৫ আগস্টের রক্তাক্ত অধ্যায় যেন ইতিহাসেই নেই। মনে হয়, এই দেশে শেখ মুজিব নামে কোনো মানুষ কখনো জন্মই নেননি।
তিনি উল্লেখ করেন, এটি শুধুমাত্র একটি গৌণ তথ্য উপেক্ষা নয়, বরং ইতিহাসকে সচেতনভাবে বিকৃত করার নির্লজ্জ প্রয়াস। সত্যকে এভাবে এড়িয়ে যাওয়া ইতিহাসের সঙ্গে এক ধরনের জঘন্য বিশ্বাসঘাতকতা।
জনাব আনিস আলমগীর মনে করেন ড. ইউনূসের এই ঘোষণাপত্র শুনলে মনে হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বুঝি হঠাৎ করে একদিন শুরু হয়ে গিয়েছিল, আর ২৬ মার্চ থেকেই কেবল এ জাতির যাত্রা। এই ৫৪ বছরে কিছুই অগ্রগতি নেই সবই অন্ধকার। তিনিই এসেছেন জাতিকে উদ্ধার করতে।
ড. ইউনূসের মনে রাখা উচিত—যেভাবে ‘প্রিন্স অব ডেনমার্ক’ ছাড়া শেক্সপিয়রের ‘হ্যামলেট’ নাটক রচিত হতে পারে না, তেমনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাদ দিয়ে কেউ যদি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখতে চায়, কিংবা “জুলাই সনদ” প্রণয়ন করতে চায়, সেটি কোনোদিনই টিকে থাকবে না।
এই সনদ হয়তো কোনো সংবিধানসংস্কারে যুক্ত হতে পারে, কিন্তু তা জনগণের সম্মতিহীন, অর্থহীন শব্দগুচ্ছ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
ড. ইউনূসের অদক্ষ নেতৃত্ব, বাস্তববিচ্যুত রাজনৈতিক কল্পনাই “জুলাই অভ্যুত্থানকে” কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে দেয়নি। আজ যারা “জুলাই বীর” হিসেবে বেঁচে আছেন, তাদের ভূমিকা অনেক সময়ই “জুলাই শহীদদের” প্রতি অশ্রদ্ধা জাগায়, যারা জীবন দিয়েছেন শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানের জন্য।
খবরওয়ালা/এমএজেড



