জোরারগঞ্জ বাজারে আগুনে পুড়ল তিন ফার্নিচারের দোকান

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি ফার্নিচারের দোকান পুড়ে গেছে। শনিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে দোকানগুলোর কাঠ, তৈরি আসবাবপত্র এবং অন্যান্য মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট আর্থিক পরিমাণ জানা যায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত তিন ব্যবসায়ী হলেন আবদুল্লাহ আল নোমান, দিদার হোসেন ও মেজবাউল আলম। গভীর রাতে বাজারের একটি অংশে আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের শিখা ও ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পাশের দোকান ও স্থাপনাগুলোতেও আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

খবর পেয়ে বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তাদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তা বাজারের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব হয়। অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন তিতাশ জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে তিনটি দোকানঘর পুড়ে গেছে এবং তিনটিই ফার্নিচারের দোকান। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও পর্যালোচনা প্রয়োজন।

ফার্নিচারের দোকানে সাধারণত বিপুল পরিমাণ কাঠ, কাঠজাত বোর্ড, ফোম, কাপড়, রং, বার্নিশ এবং তৈরি আসবাবপত্র মজুত থাকে। এসব উপকরণের বড় একটি অংশ অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায় আগুন লাগার পর তা দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। ফলে রাতের বেলায় দোকান বন্ধ থাকার সময় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এ ঘটনায়ও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তিনটি দোকানের মজুত মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে তৈরি ফার্নিচার ও কাঠের মজুত থাকায় অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা বাড়তে পারে। ব্যবসায়ীদের জন্য বিষয়টি বড় আর্থিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাতের সময়ে বাজারের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। দোকান বন্ধ থাকায় ভেতরে ধোঁয়া বা আগুন জমলেও বাইরে থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বোঝার সুযোগ থাকে না। বৈদ্যুতিক তারের ত্রুটি, পুরোনো সংযোগ, অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক চাপ কিংবা ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকেও শর্টসার্কিটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারের দোকানগুলোতে নিয়মিত বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করা জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ তার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সময়মতো পরিবর্তনের পাশাপাশি দোকান ও বাজার এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে দাহ্য সামগ্রী মজুত করা দোকানগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা দরকার।

রাতের বাজারে নজরদারি বাড়ানো এবং আগুনের প্রাথমিক সংকেত দ্রুত শনাক্ত করার ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সুযোগ থাকে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও দোকান বন্ধ করার আগে বৈদ্যুতিক সংযোগ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় পরীক্ষা করে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনটি ফার্নিচারের দোকান পুড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আগুনের সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পর্যালোচনার পর জানা যাবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।