জ্বালানি তেলের বিক্রিতে কমিশন ৭ শতাংশ নির্ধারণসহ ১০ দফা দাবিতে আজ (২৫ মে) থেকে সারাদেশে ৮ ঘণ্টার প্রতীকী কর্মবিরতি পালন করছে বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক ঐক্য পরিষদ। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে জ্বালানি তেলের উত্তোলন, পরিবহণ ও বিপণন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাজমুল হক শনিবার ‘আমাদের সময়’কে কর্মসূচি পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত ১১ মে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল সরকারকে ২৪ মের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের সময়সীমা বেঁধে দেন। তিনি বলেন, “দাবি না মানলে ২৫ মে থেকে প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে সারাদেশে জ্বালানি তেল উত্তোলন, পরিবহণ ও বিপণন বন্ধ থাকবে। তবে হজ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সচল রাখার জন্য বিমানের জেট ফুয়েল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে পেট্রলপাম্প ও ট্যাংকলরি মালিকদের এই কর্মসূচিকে নৈতিক সমর্থন দিয়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্ত এবং মহাসচিব ফারহান নূর এক যৌথ বিবৃতিতে কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জারি করা সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে পেট্রোল ও অকটেনে ৫ শতাংশ এবং ডিজেলে ৩ শতাংশ কমিশন নির্ধারণ করা হয়, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া পূর্বে শুধু ডিলারশিপ, বিস্ফোরক ও ট্রেড লাইসেন্সে ব্যবসা পরিচালনা করা গেলেও এখন নতুনভাবে পরিবেশ, ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা ও বিএসটিআইসহ একাধিক লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
ঐক্য পরিষদের নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়ে তারা সরকারের সঙ্গে সংলাপে আছেন, তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি। তাই বাধ্য হয়েই তারা কর্মবিরতির পথে গেছেন।



