আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আফ্রিকা অঞ্চলের উপ-আঞ্চলিক বাছাইপর্বে ক্রিকেটের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে। বতসোয়ানার রাজধানী গ্যাবোরনে অনুষ্ঠিত পৃথক দুটি ম্যাচে বল হাতে বতসোয়ানার পেসার নাবিল মাস্টার এবং ব্যাট হাতে রুয়ান্ডার ওপেনার হামজা খান আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একাধিক নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছেন। নাবিল মাস্টার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিংয়ের বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন, অন্যদিকে হামজা খান খেলেছেন সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।
নাবিল মাস্টারের বোলিং রেকর্ড ও বিশ্লেষণ
মালির বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বতসোয়ানার ডানহাতি পেসার নাবিল মাস্টার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে কম রান খরচ করে ন্যূনতম ৬ উইকেট শিকারের বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। তিনি মাত্র ২.৪ ওভার বোলিং করে ১ মেডেনসহ মাত্র ২ রানের বিনিময়ে ৬টি উইকেট তুলে নেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৬ বা তার বেশি উইকেট শিকারের ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম রান দেওয়ার নজির।
এর আগে এই ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিংয়ের রেকর্ডটি ছিল সিঙ্গাপুরের লেগ স্পিনার হার্শা ভারদ্বাজের। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে তিনি ৪ ওভারে ৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন। নাবিল মাস্টারের এই বিধ্বংসী স্পেলের কারণে মালি মাত্র ২৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। জবাবে বতসোয়ানা কোনো উইকেট না হারিয়ে মাত্র ২.২ ওভারেই জয়ের লক্ষে পৌঁছে যায়।
নাবিল মাস্টারের রেকর্ড বোলিং পরিসংখ্যান:
| সংশ্লিষ্ট বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| প্রতিপক্ষ | মালি |
| ভেন্যু | গ্যাবোরন, বতসোয়ানা |
| বোলিং স্পেল | ২.৪-১-২-৬ |
| ইকোনমি রেট | ০.৭৫ |
| বিশেষ অর্জন | টানা তিনবার দুই বলে দুটি করে উইকেট |
| ম্যাচের ফলাফল | বতসোয়ানা ১০ উইকেটে জয়ী |
২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া নাবিল মাস্টার তার প্রথম তিন ম্যাচে মাত্র ৩টি উইকেট শিকার করেছিলেন। তবে মালির বিপক্ষে এই ম্যাচে তিনি বতসোয়ানার প্রথম বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেট নেওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ম্যাচের ষষ্ঠ ওভারে প্রথম বোলিং করতে এসে তিনি মেডেন দেন। এরপর অষ্টম ও দশম ওভারে তিনি উইকেট শিকারের উৎসবে মাতেন। উল্লেখযোগ্য যে, তাঁর নেওয়া ৬টি উইকেটই এসেছে জোড়ায় জোড়ায় (টানা দুই বলে উইকেট)।
হামজা খানের বিধ্বংসী ব্যাটিং ও রুয়ান্ডার বিশাল জয়
একই দিনে গ্যাবোরনে অনুষ্ঠিত অন্য একটি ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে রুয়ান্ডার ওপেনার হামজা খান ব্যাটিংয়ে তছনছ করে দেন প্রতিপক্ষের বোলিং লাইনআপ। তিনি মাত্র ৬৫ বলের মোকাবিলা করে ১৬৪ রানের একটি অপরাজিত ইনিংস খেলেন। সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটারদের মধ্যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই এখন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।
এর আগে সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে এই রেকর্ডটি ছিল স্পেনের মোহাম্মদ ইহসানের (১৬০ রান)। তবে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর পরিসংখ্যান অন্তর্ভুক্ত করলে হামজার এই ১৬৪ রান আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। এই তালিকায় ১৭২ রান নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ।
হামজা খানের রেকর্ড ইনিংসের সংক্ষিপ্ত রূপ:
| পরিসংখ্যানের ক্ষেত্র | তথ্য ও উপাত্ত |
| ব্যাটসম্যান | হামজা খান (রুয়ান্ডা) |
| প্রতিপক্ষ | আইভরি কোস্ট |
| সংগৃহীত রান | ১৬৪* (অপরাজিত) |
| বল সংখ্যা | ৬৫ |
| দলীয় সংগ্রহ | ২৮৮/২ (২০ ওভার) |
| জয়ের ব্যবধান | ২৭১ রান |
হামজা খানের এই সেঞ্চুরির ওপর ভর করে রুয়ান্ডা নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেটে ২৮৮ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে আইভরি কোস্টের ব্যাটাররা রুয়ান্ডার বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। তারা ১৫.২ ওভারে মাত্র ১৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে রুয়ান্ডা ২৭১ রানের এক বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করে, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম বড় ব্যবধানের জয় হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।



