দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গতিময় পেসার আনরিখ নরকিয়া। কিন্তু প্রত্যাবর্তনটা দীর্ঘ হলো না। কুঁচকির চোটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন তিনি। ফলে সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় পর লাল বলের ক্রিকেটে ফিরে মাত্র দুই টেস্ট খেলেই আবারও মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে এই পেসারকে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে এখন ১-১ সমতা। মঙ্গলবার কেপটাউনে শুরু হতে যাওয়া শেষ ম্যাচটি তাই দুই দলের জন্যই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সিরিজ নির্ধারণী এই লড়াইয়ের আগে নরকিয়াকে হারানো স্বাগতিকদের জন্য বড় ধাক্কা। তাঁর পরিবর্তে এখনো কোনো ক্রিকেটারের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি দক্ষিণ আফ্রিকা।
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সেন্ট জর্জেস পার্কে চতুর্থ দিনের সকালে বোলিং করতে গিয়েই সমস্যায় পড়েন নরকিয়া। নিজের চতুর্থ ওভার শুরু করার পর কুঁচকির চোট অনুভব করে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এরপর আর খেলায় ফিরতে পারেননি। ম্যাচের বাকি সময় ড্রেসিংরুমে কাটাতে হয় তাঁকে। প্রাথমিকভাবে চোটের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও, ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আশঙ্কার তুলনায় তাঁর চোট কম গুরুতর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কত দিন তাঁকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালের মার্চে টেস্ট খেলেছিলেন নরকিয়া। এরপর চোট ও ফিটনেসজনিত সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় এই সংস্করণের বাইরে ছিলেন তিনি। চলতি সিরিজের প্রথম টেস্ট দিয়ে দীর্ঘ বিরতি ভেঙে সাদা পোশাকে ফেরেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই পেসার। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪০ ওভার বোলিং করে চারটি উইকেট শিকার করেন। তাঁর পারফরম্যান্সে বোঝা গিয়েছিল, দীর্ঘ বিরতির পরও দলের বোলিং আক্রমণে কার্যকর ভূমিকা রাখার সামর্থ্য রয়েছে।
প্রথম টেস্টের পর নরকিয়াকে দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা ছিল। তবে প্রথম ম্যাচে বোলিং করার সময় কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা না দেওয়ায় তাঁকে একাদশে রাখে দক্ষিণ আফ্রিকার টিম ম্যানেজমেন্ট। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় টেস্টেই নতুন করে চোটের শিকার হন তিনি।
নরকিয়ার অতীতের চোটের ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে খেলানোর সিদ্ধান্তটি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বলে পরে স্বীকার করেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গতির জন্য পরিচিত এই পেসারের ফিটনেস দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। তাঁর ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকতে না পারা দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং পরিকল্পনায়ও প্রভাব ফেলেছে।
নরকিয়ার অনুপস্থিতিতে শেষ টেস্টের একাদশে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন জেরাল্ড কোয়েৎজি, অলরাউন্ডার করবিন বশ ও কেপটাউনের পেসার ডেন প্যাটারসন। তিনজনই দলের সঙ্গে রয়েছেন। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে কাকে খেলানো হবে, তা নির্ধারণে উইকেটের ধরন, বোলারদের সাম্প্রতিক ফর্ম এবং দলের ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য চোটের সমস্যা শুধু নরকিয়াকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ নয়। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ভুগতে থাকা পেসার লুঙ্গি এনগিডির মাঠে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে আগামী মাসে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজেও তাঁকে পাওয়ার আশা করছে দলটি। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তন পুরোপুরি ফিটনেস ফিরে পাওয়ার ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে, একই ধরনের চোট কাটিয়ে শুক্রবার প্রো-২০ প্রতিযোগিতায় ডলফিনসের হয়ে মাঠে ফিরেছেন অটনিয়েল বার্টম্যান। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স দেখান তিনি। মাত্র ১২ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন এই পেসার। তাঁর এমন পারফরম্যান্স দক্ষিণ আফ্রিকার পেস বোলিং বিভাগের জন্য ইতিবাচক খবর।
অন্যদিকে, বাঁহাতি পেসার কুয়েনা মাফাকা ও ব্যাটার টনি ডি জর্জির চোট নিয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছিলেন ডি জর্জি। তাঁদের মাঠে ফেরার সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দল নির্বাচন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
সিরিজের শেষ টেস্টে নরকিয়ার অনুপস্থিতি বোলিং আক্রমণের গতি ও বৈচিত্র্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট নেওয়ার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিকল্প পেসারদের ওপর নির্ভর করতে হবে। একই সঙ্গে দলের অন্য চোটগ্রস্ত ক্রিকেটারদের ফিটনেস ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটায় শুরু হওয়ার কথা। সিরিজে সমতা থাকায় এই ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে কোন দল শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকবে। স্বাগতিকদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হবে নরকিয়ার অনুপস্থিতি সামলে বোলিং আক্রমণকে কার্যকর রাখা এবং নিজেদের মাঠে সিরিজ জয়ের সুযোগ কাজে লাগানো।


