রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অপরাধবিরোধী অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও আলামত জব্দের পাশাপাশি ২৯টি মামলা করা হয়েছে। একই অভিযানে একজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটের আওতাধীন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে এসব গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মানুষ আটক হয়েছেন মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগে। মিরপুর বিভাগ থেকে ১০৬ জন এবং তেজগাঁও বিভাগ থেকে ১০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৬৯ জন, মতিঝিল বিভাগে ৬১ জন, লালবাগ বিভাগে ৪৫ জন এবং গুলশান বিভাগে ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তরা বিভাগে ৩৫ জন এবং রমনা বিভাগে ২৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ থেকে দুজন এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগ থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪ কেজি গাঁজা, ৪ হাজার ৫৩৩ পিস ইয়াবা ও ৭৫ বোতল ফেন্সিডিল। পাশাপাশি ১১টি মোবাইল ফোন জব্দের কথাও জানিয়েছে ডিএমপি।
একই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। তবে বিজ্ঞপ্তিতে এসব আলামতের ধরন বা কোন মামলার সঙ্গে সেগুলো সংশ্লিষ্ট, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযানের সময় একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির পরিচয়, কোথা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে বা কী ধরনের ঘটনায় তিনি ভিকটিম হয়েছেন—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ ক্ষেত্রে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত মামলার তদন্তে প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে গ্রেপ্তার মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়; তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই করা হবে।
রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ডিএমপির নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে। এসব অভিযানে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিএমপির বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটও দায়িত্ব পালন করে।
গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগ ও দুটি বিশেষায়িত ইউনিটের মধ্যে তেজগাঁও ও মিরপুর বিভাগে গ্রেপ্তারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে গোয়েন্দা ও সিটিটিসি ইউনিটে গ্রেপ্তারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও তাদের কার্যক্রম সাধারণত নির্দিষ্ট ধরনের অপরাধ ও গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


