দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপে চলতি বছর মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩২৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ১৭০ জন এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০২।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম বিভাগ ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
মৃত্যুর হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী মারা গেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। চলতি বছর এ পর্যন্ত এই এলাকায় ডেঙ্গুতে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর খুলনা বিভাগে ১৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন মারা গেছেন।
এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪ জন এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে বিভাগের অন্যান্য এলাকায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
নতুন রোগী শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য চাপ দেখা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৪১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা জেলার অন্যান্য এলাকায় ভর্তি হয়েছেন আরও ২৯৮ জন।
ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন খুলনা বিভাগে—২৪৬ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৯ জন, বরিশাল বিভাগে ১২১ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ১১৪ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ৮৭ জন, রংপুরে ৩৪ জন এবং সিলেটে পাঁচজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে আগস্টে ডেঙ্গুর সংক্রমণের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল। ওই মাসে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। একই মাসে রোগটিতে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরের মাসভিত্তিক মৃত্যুর মধ্যেও সর্বোচ্চ।
ডেঙ্গুর এই পরিস্থিতি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য নতুন করে চাপ তৈরি করছে। সাধারণত এডিস মশার বিস্তার ও সংক্রমণের সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। তাই রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে সতর্কতা বজায় রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করছে। সেই দীর্ঘ সময়ের পরিসংখ্যানেও ২০২৩ সাল ছিল ভয়াবহ। ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। একই বছর রোগটিতে মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
এর আগের বছরগুলোর তুলনায় গত বছরও ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২ হাজার।
চলতি বছরের পরিস্থিতিতে আগস্টে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি বিশেষভাবে নজরে এসেছে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৩৭ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।



