দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৯২ জন রোগী। ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৯ জনে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৮৪ জন রয়েছেন খুলনা বিভাগে। এরপর ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ২৪১ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২০২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৭৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮০ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৮১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রংপুর বিভাগে ৫৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি হিসাবে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৪৮ হাজার ৪৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৮৫৭ জন। সর্বশেষ ছয়জনের মৃত্যু নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা ১৩৯-এ পৌঁছেছে।
নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির এই সংখ্যা থেকে বোঝা যাচ্ছে, ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষ করে রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন বিভাগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রোগটির বিস্তারের বিষয়টি সামনে এসেছে।
ডেঙ্গু সাধারণত এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এ মশার বংশবিস্তার বাড়তে পারে। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা কমাতে শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে সতর্কতাও গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বমি ভাব কিংবা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা বাড়লে রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই বিশেষ করে উচ্চ জ্বরের সময় পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিদিনের হিসাব অনুযায়ী পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রস্তুতির পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা—দুই দিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।


