ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৩৭৩

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৭৩ জন। নতুন করে মৃত্যুর ঘটনা এবং বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও নতুন রোগী শনাক্তের এই তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া সাতজনই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা। রাজধানীর এই অংশে এক দিনে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের কার্যকারিতা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৯০ জন। অর্থাৎ, বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে কারও কারও জ্বরের পাশাপাশি তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো জটিল উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফুলের টবের নিচের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, পানির বালতি, ছাদে জমে থাকা পানি কিংবা অন্য কোনো পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই এসব স্থানে পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিষ্কার করা দরকার। পানির ট্যাংক ও সংরক্ষণপাত্র ঢেকে রাখাও জরুরি।

শুধু ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিয়মিত মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা এবং আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করার মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। তবে শুধু মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দিয়ে পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র বোঝা যায় না; সংক্রমণের এলাকাভিত্তিক বিস্তার, রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।

এ অবস্থায় জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা চালানো এবং বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা জরুরি।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।