বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা নিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে থাকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। তাদের শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বরের সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বায়ুমান তুলনামূলকভাবে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এদিন ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ৮৭, যা ‘মাঝারি বা সহনীয়’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
আইকিউএয়ারের তালিকায় ৮৭ স্কোর নিয়ে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর মধ্যে ১৯তম অবস্থানে রয়েছে। ফলে বিশ্বের অনেক শহরের তুলনায় এদিন ঢাকার বাতাসের পরিস্থিতি কিছুটা ভালো ছিল। তবে ‘সহনীয়’ মানের বাতাসকে পুরোপুরি দূষণমুক্ত বলা যায় না। বায়ুমানের এই স্তরেও দূষণের প্রতি সংবেদনশীল ব্যক্তিদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন হতে পারে।
শুক্রবারের তালিকায় সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে উঠে এসেছে পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির একিউআই স্কোর ১৮৭, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণিতে পড়ে। অর্থাৎ লাহোরের বাসিন্দাদের জন্য এদিনের বায়ুমান স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। শহরটির একিউআই স্কোর ১৮১। ১৬৫ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুচিং। চতুর্থ অবস্থানে থাকা কাতারের দোহার স্কোর ১৬০। একই স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই।
বায়ুমানের এই সূচকে মূলত বাতাসে থাকা বিভিন্ন দূষণকারী উপাদানের মাত্রার ভিত্তিতে শহরগুলোর পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। নগরায়ণ, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং আবহাওয়াজনিত বিভিন্ন কারণ অনেক শহরের বায়ুমানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ঢাকার ক্ষেত্রেও যানবাহন ও নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্ট দূষণ বায়ুর মানকে প্রভাবিত করে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসের মান ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর হলে তা ‘মাঝারি বা সহনীয়’। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১ থেকে ২০০ ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়। ৩০১-এর বেশি স্কোর হলে বায়ুমান ‘দুর্যোগপূর্ণ’ পর্যায়ে রয়েছে বলে বিবেচনা করা হয়।
এই হিসাবে শুক্রবার ঢাকার ৮৭ স্কোর ‘মাঝারি বা সহনীয়’ স্তরের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে লাহোরের ১৮৭ স্কোর একই সময়ে ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে ছিল। ফলে একই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুমানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে।
বায়ুদূষণের মাত্রা সময় ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো একটি সময়ের একিউআই স্কোর দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বায়ুমানের চিত্র নির্ধারণ করা যায় না। নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে একটি শহরের বায়ুর সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।


