ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের ফটকে আবারও আগের নামফলক প্রতিস্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাময়িকভাবে লেখা ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামফলকটি সরিয়ে সেখানে মূল নাম অনুযায়ী ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’ পুনর্লিখন করা হচ্ছে।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখাটি মুছে ফেলার কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলের ফটক থেকে নাম মুছে ফেলার এই দৃশ্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়।
হলের নামফলক পরিবর্তনের এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। গত সিনেট অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গৃহীত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নিয়ম অনুযায়ী হলটি তার পূর্ব নির্ধারিত অফিসিয়াল ও প্রাতিষ্ঠানিক নামেই পরিচালিত হবে। প্রশাসনিক নির্দেশনার আলোকেই ফটকের লেখা সংশোধন করা হচ্ছে।
পটভূমি পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এক সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। ওই ঘটনার পর উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তৎকালীন শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটকে থাকা আগের নামফলকটি মুছে ফেলেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের একাংশ। সেখানে নতুন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লিখে দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) প্রশাসনিকভাবে হলের নাম পরিবর্তন করে স্থায়ীভাবে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানায়। তৎকালীন সময়ে নামফলক পরিবর্তন নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সিন্ডিকেট ও সিনেটের অনুমোদন না থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পূর্বের প্রাতিষ্ঠানিক নাম ফিরিয়ে আনার পথেই হেঁটেছে। বর্তমানে হলের আগের প্রশাসনিক নাম পুনর্বহালের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।


