ঢাবিতে তোফাজ্জলের হত্যাকাণ্ড মামলায় ২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিক ভারসাম্যহীন ছাত্র তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় নতুন তদন্তের পর আদালত ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ ও সাধারণ সমাজে যথেষ্ট চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা অভিযোগপত্র গ্রহণের মাধ্যমে মামলার নতুন দফার কার্যক্রম অনুমোদন করেন। অভিযোগপত্রে মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও হলবাসী শিক্ষার্থীদের নাম উল্লেখ রয়েছে। তাদের মধ্যে কারাগারে থাকা, জামিনে থাকা ও পলাতকদের তথ্য নিম্নরূপ:

আসামির গ্রুপ এবং অবস্থান

নাম বয়স বিভাগ/হল বর্তমান অবস্থান মন্তব্য
জালাল মিয়া ২৩ পদার্থবিজ্ঞান কারাগার পলাতক নয়
আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ২৪ ফজলুল হক মুসলিম হল জামিনে সুষ্ঠু তদন্তে সহায়ক
আল হোসাইন সাজ্জাদ ২২ পদার্থবিজ্ঞান কারাগার তদন্তাধীন
মোত্তাকিন সাকিন শাহ ২৫ পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট কারাগার মূল অভিযুক্ত
সুমন মিয়া ২৩ মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ কারাগার সহকারী
ওয়াজিবুল আলম ২৪ পদার্থবিজ্ঞান জামিনে তদন্তে সহযোগিতা
ফয়সাল, অন্যান্য ২২ জন ২০–২৬ বিভিন্ন বিভাগ পলাতক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

পুলিশ ও প্রসিকিউশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মামলার বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ প্রাথমিকভাবে অভিযোগপত্র গ্রহণে নারাজি জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি তা জমা দেননি। ফলে আদালত ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং পলাতকদের জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

ঘটনার পটভূমি

২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফজলুল হক মুসলিম হলের অতিথি কক্ষে তোফাজ্জল হোসেনকে কয়েকজন শিক্ষার্থী পিটিয়ে হত্যা করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তার ওপর নির্যাতন চালানোর আগে তাকে ভাত খেতে দেওয়া হয় এবং জিজ্ঞেস করা হয় ভাত কেমন লাগছে। রাত ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে ২১ জন শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম ১৫ ডিসেম্বর নতুন তদন্তের পর আরও সাত জনসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহিংসতার এই ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসিক ও সামাজিক পরিবেশের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও আদালতের স্বচ্ছ কার্যক্রমই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধের প্রধান মাধ্যম।

এই মামলার কার্যক্রম আগামী দিনে শিক্ষার্থী সমাজের মধ্যে নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব পুনরায় প্রমাণ করবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।