ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে যাওয়া জুলাই আন্দোলনে হতাহত পরিবারের সদস্যদের জন্য কোনো কোটা সুবিধা নয়, বরং শুধুমাত্র ভর্তির সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে “আর্থিক সহায়তা” দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৩ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য “বিশেষ সুবিধা” দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির সাম্প্রতিক এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শহীদ বা আহতদের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে প্রথম অগ্রাধিকার পাবেন। স্ত্রী বা সন্তান না থাকলে ভাই-বোনরাও এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনসংযোগ দফতরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, কী ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে, তা ডিনস কমিটির পরবর্তী সভায় নির্ধারণ করা হবে।
তবে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর শুরু হয় নানা বিতর্ক ও সমালোচনা। অনেকেই দাবি করেন, যেখানে কোটাবিরোধী আন্দোলনে মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, সেখানে আবার ‘বিশেষ সুবিধা’র নামে বৈষম্য ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়ামীপন্থী অ্যাক্টিভিস্টদের একাংশ এটিকে “কোটায় ভর্তি” বলে প্রচার করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, এসব প্রচারণা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান স্পষ্ট করে বলেন, “এটা কোনো কোটানীতি নয়, বরং এক বছরের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা মাত্র। এটি এখনও নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়নি এবং সিন্ডিকেট ও ডিনস কমিটি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো শহীদ বা আহত পরিবারের সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির সব মাপকাঠি পূরণ করে, তখন তার জন্য একটি আর্থিক সহায়তা বিবেচনা করা যেতে পারে।”
ঢাবি প্রশাসন বলছে, এটি কোনো স্থায়ী বা লিখিত নীতিমালা নয়, বরং মানবিক বিবেচনায় একটি সম্ভাব্য ব্যবস্থা।
খবরওয়ালা/এমএজেড



