দেবীদ্বারে সরকারি হাসপাতালে দালালের হামলায় ৩ আনসার সদস্য আহত

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের ওপর এক চিহ্নিত দালালের সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। জরুরি বিভাগের সামনে ঘটা এই হামলায় হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তিন আনসার সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে অন্য আনসার সদস্য ও স্থানীয় উৎসুক জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে অভিযুক্ত দালাল আক্তার হোসেনকে (৩৫) আটক করে পুলিশে সর্দোর্প করেন। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।

গ্রেপ্তার হওয়া আক্তার হোসেন দেবীদ্বার পৌরসভার ওমান কাশেম বাড়ির বাসিন্দা রুহুল আমিনের ছেলে। আর এই হামলায় আহত আনসার সদস্যরা হলেন মো. হান্নান মিয়া, দেলোয়ার হোসেন ও শাহাবুদ্দিন। আহত তিনজনকেই তৎক্ষণাৎ দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ দিয়ে আহত আনসার সদস্য দেলোয়ার হোসেন জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আক্তার হোসেন বহিরাগত হিসেবে হাসপাতালের ভেতর ঢোকেন। হাসপাতালে ঢোকার কারণ জানতে চাইলে তিনি মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। নিজের পকেট থেকে অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত ধারালো সিজার ব্লেড বের করে তিনি আনসার সদস্যদের দিকে তেড়ে আসেন এবং প্রথম আক্রমণ চালান। দেলোয়ারকে রক্ষায় সহকর্মী হান্নান মিয়া ও শাহাবুদ্দিন এগিয়ে এলে আক্তার তাঁদের ওপরও এলোপাতাড়ি হামলা ও মারধর শুরু করেন। সহকর্মীদের চিৎকারে হাসপাতালের অন্য আনসার সদস্য ও সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে আক্তারকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ধরে ফেলেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আক্তার হোসেন ওই এলাকার একজন নিয়মিত ও চরম উগ্র সন্ত্রাসী প্রকৃতির দালাল। দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ড. কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আক্তার সব সময় পকেটে ধারালো ব্লেড বা অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করেন। হাসপাতালে এসে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর চড়াও হওয়াই নয়, চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জিম্মি করে টাকা-পয়সা ছিনতাই করাই তাঁর নিত্যদিনের কাজ। এর আগে বহিরাগত দালালদের উগ্রতা ও অত্যাচার ঠেকাতেই হাসপাতালে নিরাপত্তা বাড়াতে ১১ জন আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

ড. কবির হোসেন আরও প্রকাশ করেন যে, আক্তারকে এর আগে বহুবার পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে সাজা দিয়ে জেলে পাঠানো হলেও জামিনে বের হয়ে তিনি আবারও একই অপরাধে লিপ্ত হন।

ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পৌঁছান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সল উদ্দিন। ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মীরা আহত হওয়ায় তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে থানায় গিয়ে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়েরের স্পষ্ট নির্দেশনা দেন।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ দল পাঠিয়ে অভিযুক্ত দালালকে উদ্ধার করে হেফাজতে আনা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলা সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে সোমবার সকালে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।