দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে তেজাবি স্বর্ণের (পাকাপোক্ত সোনা) মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের বাজারে আবারও লাফিয়ে বেড়েছে অলঙ্করণের এই মূলবান ধাতুর দাম। জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী শনিবার (২২ আগস্ট) সারা দেশে অলঙ্কার ক্রয়-বিক্রয় চলছে।
সবশেষ গত ২০ আগস্ট সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে স্বর্ণের নতুন এ দর পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। একই সময়ে রুপার দামেও সমন্বয় আনা হয়েছে, যেখানে ভরিতে দর বেড়েছে ২৩৩ টাকা। ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই দেশজুড়ে নতুন এই মূল্য তালিকা কার্যকর করা হয়। বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে বাজুসের এই বিজ্ঞপ্তিটি গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন বাজারদর অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলঙ্কার ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাজুস নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট ভ্যাট এবং কারিগরী মজুরি অলঙ্কারের ক্যাটাগরি ও ডিজাইনভেদে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হবে। জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অলঙ্কার বিক্রয়ের সময় সরকার নির্ধারিত ভ্যাট গ্রাহকের কাছ থেকে পৃথকভাবে আদায় না করে বিক্রয়মূল্যের অন্তর্ভুক্ত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আগের নিয়ম বহাল রেখে বলা হয়েছে যে পাথর, মজুরি ও ভ্যাট বাদ দিয়ে পুরনো অলঙ্কার বদল বা বিক্রয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম শেষবার সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিনও ভরিপ্রতি ২ হাজার ১৫৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দর দাঁড়ায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকায়। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় বুলিয়ান মার্কেটের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে চলতি বছরে স্বর্ণের দামে নজিরবিহীন ঘনঘন পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে সর্বমোট ১০৫ বার স্বর্ণের দর সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ বার বাড়ানো হয়েছে, ৫১ বার কমানো হয়েছে এবং ১ বার ভ্যাটের সাথে দর সমন্বয় করা হয়েছে। তুলনা করলে দেখা যায়, বিগত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দামের হেরফের হয়েছিল—যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।


