ঢাকার ধামরাইয়ে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ মোট তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। উপজেলার কালামপুর-সাটুরিয়া আঞ্চলিক সড়কে একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। এতে অটোরিকশায় থাকা আরও তিনজন গুরুতর আহত হন।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আমতা ইউনিয়নের নান্দেশ্বরী বটতলা এলাকার টাইগার ব্রিকসসংলগ্ন পাকা সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে নেওয়ার পর অটোরিকশার চালকসহ তিন আরোহীর মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন—আখি বেগম (৩০), মো. জাকারিয়া (১২) এবং অটোরিকশাচালক জুয়েল।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ধামরাইয়ের কালামপুর থেকে সাটুরিয়াগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির পিকআপভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধাক্কায় অটোরিকশাটি একেবারে দুমড়েমুচড়ে যায় এবং এতে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে তিনজনের মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত আখি বেগমের দীর্ঘদিন ধরে কোনো সন্তান হচ্ছিল না। সে কারণে তারা পরম বিশ্বাসের জায়গা থেকে পীরের দরবারে মানত ও দোয়া চাইতে যাচ্ছিলেন। আখি বেগমের বাবা আহত আবুল হোসেন জানান, একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য অটোরিকশায় করে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান ও পীরের দরবারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে এই ঘাতক পিকআপ তাদের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় আবুল হোসেন ও তার জামাই সেলিম আহমেদ জীবিত রক্ষা পেলেও নিজের চোখের সামনেই মেয়ে, নাতি এবং অটোরিকশাচালকের মৃত্যু দেখেন।
ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করে স্থানীয় থানার পুলিশ জানায়, খবর পাওয়ার পরপরই কাওয়ালিপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির টিম দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই পিকআপভ্যানের চালক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ ঘাতক যানটি শনাক্ত এবং চালককে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে সাটুরিয়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক মো. রোকনুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনায় অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় থাকা একজনকে আশঙ্কাজনক দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
আঞ্চলিক এই সড়কটিতে সাম্প্রতিক সময়ে প্রায়ই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং মোড়গুলোতে কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন করুণ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।


