নাটোরের লালপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে একই গ্রামের দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার বেরিলাবাড়ী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশুর বয়স যথাক্রমে দুই বছর ও আড়াই বছর। তাদের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার দুটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ।
নিহত শিশুরা হলো বেরিলাবাড়ী গ্রামের সেরাজুল হকের মেয়ে মোছা. শিউলী খাতুন (২ বছর ৬ মাস) এবং একই গ্রামের আনারুল ইসলামের মেয়ে মোছা. আফিয়া খাতুন (২ বছর)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে শিশু দুটি বাড়ির পাশেই খেলাধুলা করছিল। পরিবারের সদস্যদের অজান্তে কোনো একসময় তারা বাড়ির কাছের একটি পুকুরে পড়ে যায়। এ সময় পরিবারের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর শিশু দুটিকে আশপাশে দেখতে না পেয়ে তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনেরা।
প্রথমে বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করা হয়। পরে আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে তাদের পাওয়া যায়। দ্রুত পানি থেকে উদ্ধার করে শিশু দুটিকে স্থানীয়দের সহায়তায় বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বেরিলাবাড়ী গ্রামজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়। একই গ্রামের দুটি পরিবারের দুই শিশুর এমন মৃত্যুতে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নেমে আসে গভীর শোক। অল্প বয়সী শিশু দুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা শোকে ভেঙে পড়েন।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠকে জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুকুরের পানিতে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হবে। বিধি অনুযায়ী ময়নাতদন্ত ছাড়াই প্রকৃত অভিভাবকদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
শিশুদের নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি
গ্রামাঞ্চলে অনেক বাড়ির আশপাশেই পুকুর, ডোবা কিংবা জলাশয় রয়েছে। ছোট শিশুরা খেলাধুলার সময় অসাবধানতাবশত এসব জলাশয়ের কাছে চলে যেতে পারে। বিশেষ করে দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে পানিতে ডুবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি। কারণ, এ বয়সে শিশুরা বিপদ সম্পর্কে সচেতন থাকে না এবং অল্প পানিতেও ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়ির আশপাশের পুকুর ও জলাশয়ের প্রবেশপথ যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। পুকুরের চারপাশে নিরাপদ বেড়া দেওয়া, শিশুদের একা বাইরে খেলতে না দেওয়া এবং বাড়ির বড়দের সার্বক্ষণিক নজরদারি এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নাটোরের লালপুরের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সামান্য সময়ের অসতর্কতাও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।


