দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ এসএ২০-এর আসন্ন মৌসুমে বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা খেলতে পারছেন না। বুধবার, ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মিনি-নিলামে তাঁর নাম উঠলেও কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি আগ্রহ দেখায়নি। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার এই জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় এবারও নাহিদের খেলার সুযোগ হলো না।
তবে বাংলাদেশ থেকে এসএ২০-তে প্রতিনিধিত্ব করবেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। চলতি বছরের শুরুতেই তাঁকে দলে নিয়েছে সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ। সবকিছু ঠিক থাকলে আসন্ন মৌসুমে দলটির হয়ে মাঠে দেখা যাবে বাংলাদেশের এই তরুণ স্পিনারকে।
নাহিদের জন্য এবারের নিলামটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ লাখ দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি টাকারও বেশি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গতি ও বোলিংয়ের বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত হলেও নিলামে তাঁর প্রতি কোনো দলের আগ্রহ তৈরি হয়নি। ফলে বড় অঙ্কের ভিত্তিমূল্য নিয়েও অবিক্রীত থাকতে হয়েছে এই বাংলাদেশি পেসারকে।
এবারের মিনি-নিলামে মোট ১৫৬ জন ক্রিকেটারের নাম ছিল। তাঁদের মধ্যে ৯৫ জন দক্ষিণ আফ্রিকার এবং ৬১ জন ছিলেন বিদেশি ক্রিকেটার। নিলামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখও ছিলেন। কাইরন পোলার্ড, ফাফ ডু প্লেসিস, ট্রেন্ট বোল্ট, শিমরন হেটমায়ার ও টেম্বা বাভুমার মতো তারকা ক্রিকেটাররা দল পেয়েছেন।
ছয় দলের এই প্রতিযোগিতায় নিলামের আগে চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে মোট ২০টি খেলোয়াড়ের জায়গা খালি ছিল। ওই জায়গাগুলো পূরণ করতে দলগুলোর সম্মিলিতভাবে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৫০ লাখ ২৫ হাজার দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড ব্যয়ের সুযোগ ছিল। এর বাইরে জোহানেসবার্গ সুপার কিংসের জন্য একটি ওয়াইল্ড কার্ডও ছিল, যা দলের নির্ধারিত স্যালারি ক্যাপের অন্তর্ভুক্ত নয়।
তবে সব ফ্র্যাঞ্চাইজি নিলামে অংশ নেয়নি। ডারবানস সুপার জায়ান্টস ও পার্ল রয়্যালসের স্কোয়াড আগেই ১৯ জনে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় তারা এবার নিলামে অংশ নেয়নি। ফলে অবশিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যেই খালি জায়গা পূরণের লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল।
বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর অবশ্য থাকবে রিশাদ হোসেনের দিকে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে লেগস্পিনের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও কার্যকর হওয়ার সামর্থ্য দেখিয়েছেন তিনি। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁর অভিজ্ঞতাও রয়েছে। এসএ২০-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসরে খেলার সুযোগ পেলে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে নিজের দক্ষতা আরও তুলে ধরার সুযোগ পাবেন রিশাদ।
এসএ২০-এর নতুন মৌসুম শুরু হবে আগামী ১৭ জানুয়ারি। আগের মৌসুমে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ এবারও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামবে। দীর্ঘ লিগপর্ব ও প্লে-অফের লড়াই শেষে ২১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
নাহিদ রানা এবার দল না পেলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটার হিসেবে এসএ২০-এর মঞ্চে রিশাদের উপস্থিতি থাকছে। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব পুরোপুরি অনুপস্থিত থাকছে না।


